• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন
  • English Version
শিরোনাম:
বগুড়া জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সিপারকে বিএনপি থেকে বহিস্কার বৃষ্টি সম্পর্কে বিস্ময়কর ১২টি তথ্য যা আপনি আগে হয়তো জানতেন না নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলতে মানবজাতিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে বহিরাগতদের কলেজে প্রবেশ নিষেধ খাদ্য নষ্ট ও অপচয় করা যাবে না : কৃষিমন্ত্রী দিবালোকে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক বগুড়ায় পুকুরে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার বিএনপির রাজনীতিতে চরম দুঃসময় চলছে : ওবাইদুল কাদের শিগগিরই আসছে এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

গোড়ায় গন্ডগোল (পর্বঃ০১)

মোঃসারোয়ার হোসেন(হাবীব)
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

লেখক: সারোয়ার হোসেন(হাবীব)
পর্বঃ০১
ড.রহমান এর আজ খুব রাগ হচ্ছে। তার পছন্দের হাতঘড়িটা কাল
থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সকালে কিছুই খাওয়া হয়নি।
তারমধ্যে রুপাকে সে চা আনতে পাঠিয়েছে অনেক্ষণ
হলো।
এখনো যে সে কেনো ফিরছেনা কে জানে!
হয়তো কাজের মেয়ে টুম্পার সাথে হি হি করে গল্প
করছে।
টুম্পা তো সবসময় গল্পের ঝুড়ি বিছিয়েই রাখে। সামনে যে
কোনো
অডিয়েন্স পেলেই গল্পগুলো ওগলায়। পেটে কোনো
কথা রাখতে
পারেনা টুম্পা। একবেলা ভাত কম খাবে কিন্তু,একবেলা কথা না
বলে থাকতে পারবেনা।
আজকাল রুপাও জুটেছে তার সাথে। দুই মাথা একসাথে হওয়া
মানেই দুনিয়ার কোনো কথা তাদের মাথায় থাকেনা।
ড.রহমান ঘড়ি খোঁজায় মনোযোগ দিলেন। কোথায় যে
ঘড়িটা রেখেছেন তিনি মনে করতে পারছেন না। তিনি ঘড়ি
খোঁজা ছেড়ে এখন রিমোট খুঁজতে লাগলেন। টিভিটা চালু
করলেই সময় জানা যাবে। দেয়ালঘড়িটাও দুদিন হলো বন্ধ হয়ে
আছে। রিমোট
খুঁজতে গিয়ে তার মেজাজ আরো বিগড়ে গেলো।
কাজের সময় হাতের কাছে কোনো জিনিস খুঁজে পাওয়া যায়
না।
কয়েকদিন হলো তার বড্ড খারাপ সময় যাচ্ছে। রেহেনাও রাগ
করে বাপের বাড়ি গিয়ে বসে আছে। মোবাইলে সময় ঠিক
করতে হবে আর দুপুরের সংবাদটা দেখা প্রয়োজন। এমন
সময়েই রিমোট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ড.রহমান হতাশ হয়ে
সোফায় বসলেন।
–বাবা,এই যে তোমার চা!
ড.রহমান পেছনে ঘুরলেন। রুপা আজ নীল শাড়ি পড়েছে।
দেখতে কেমন বড় বড় লাগতেছে। ড.রহমান এখন অন্য
চিন্তা করছেন। চিন্তাটা রুপাকে নিয়েই। মেয়ের বিস্ময়মাখা দৃষ্টি
দেখে তার চিন্তায় বাধা পড়লো…
–চা আনতে এতো সময় লাগলো?
ড.রহমানের ইচ্ছা হচ্ছে চায়ের কাপটা নিয়ে মেঝেতে
জোরে সোরে একটা আছাড় মারতে,কিন্তু নিজেকে তিনি
সামলে নিলেন।
তিনি জানেন,রাগটা যার উপরেই দেখানো হোক,ক্ষতিটা তার
নিজেরই হবে। তার কারণ হলো,চায়ের কাপ ও পিরিচ তিনি
অনেক সখ করে সিলেটে ঘুরতে গিয়ে কিনে
এনেছিলেন। তিনটা কাপ পিরিচসহ কিনতে গুনে গুনে দুটো
একহাজার টাকার নোট তাকে ব্যায় করতে হয়েছে। তিনটা
কাপের ভেতর এখন এই একটা কাপই অক্ষত আছে। বাকি
দুটোর ডেডবডি কোনো ভাংগাচুড়ার সাথে ডাষ্টবিনে চলে
গেছে। টাকাটা বড় ব্যাপার না হলেও কাপটার ডিজাইন খুব সুন্দর।
তাছাড়া দির্ঘদিন এক কাপে চা খেতে খেতে কাপটারপ্রতি তার
বড্ড মায়া পড়ে গেছে।
রুপা চুপচাপ বাবার ভ্রু’কুচকানো মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
ড.রহমান তা বুঝতে পেরে আস্তে করে মেয়ের হাত
থেকে কাপটা তুলে নিতে নিতে বললেন,
–কি রে,চুপ করে আছিস কেনো? একটা প্রশ্ন করলাম তো!
–কি যে বলোনা বাবা,তুমি নিজে চা বানাতে গেলে বুঝতে।
চায়ের পানি গরম হতে তো একটু সময় লাগবেই। তাছাড়া,গরম
পানিতে চিনি ঢেলে,লিকার ছড়ায়ে নেরেচেড়ে আনতে
তো এতোটুকু সময় প্রয়োজন ছিলো,তাছাড়া চা বানানোর
ফাঁকে এতো সুন্দর করে সাজলাম এটা কি তোমার চোখে
পড়ছেনা?
ড.রহমান চোখ বড় বড় করে মেয়ের কথা শুনছেন। তিনি
লখ্য করেছেন,আজকাল নিজের মেয়েটাও বড্ড বাচাল হয়ে
যাচ্ছে।
একেতো টুম্পা আগে থেকেই বাচাল এখন আবার নিজের
মেয়েটাও তার সাথে জুটেছে। একে রামের রক্ষা
নাই,সুগ্রীব তার দোসর। মাথা খারাপ হতে আর বেশীদিন
অপেক্ষা করতে হবে না।
নয়ন তো জবের কারণে পাবনায় আছে। ওকে ফোন
করে পাগলাগারদে সিট বুক করতে হবে। অাগ্রিম সিটবুকিংয়ের
জন্য ডিসকাউন্ট পাবো কি না,তা জেনে নিলে ভালো হতো।
সময় করে নয়নকে একটা কল করতে হবে…
–কি হলো বাবা! কি ভাবছো?
–কিছুনা,তুই কি কোথাও বেড়োবি?
–হুম,একটু পার্কে যাবো ভেবেছি…
ড.রহমান ভ্রু’কুচকে মেয়ের দিকে তাকালেন। তিনি
শুনেছেন,আজকাল পার্কে নাকি অবাধ প্রেমলীলা চলে।
মেয়েটা তো বড় হয়েছে। ও কি কারোর সাথে দেখা
করতে যাচ্ছে নাকি!
–শোন রুপা,তুই এখন বড় হয়েছিস,এভাবে ড্যাং ড্যাং করে
এখানে সেখানে,বিশেষ করে পার্কে যাওয়া চলবেনা।
কোনো কাজ থাকলে টুম্পাকে দিয়ে করিয়ে নে।
রুপা কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গেলো। ড.রহমান
চোখের কোনা দিয়ে মেয়ের অঙ্গভঙ্গি নজরে
রাখলেন এবং বাম হাতে টেবিলে থাকা পত্রিকাটা হাতে নিয়ে পৃষ্ঠা
উল্টালেন।
আজকাল খবরের কাগজগুলোও কেমন একঘেয়ে হয়ে
গেছে। প্রতিদিন প্রায় একই ধাচের খবর ছাপানো হয়।
খুন,ধর্ষণ,চাঁদাবাজি,নেতা কর্মিদের বিভিন্নরকম জোচ্চুরি
ইত্যাদিতে নিউজ ভরে থাকে। প্রতিদিন বিনা কারণে ১০টাকা করে
বাড়তি খরচ যাচ্ছে এই পত্রিকার পেছনে। রুপা এখনও তার পাশে
দারিয়ে আছে দেখে পত্রিকা থেকে মাথা তুলে সরাসরি
মেয়েকে প্রশ্ন করলেন,
–কিছু বলবি?
–বলতে চাইলাম,কিন্তু এখন বলা ঠিক হবে না।
ড.রহমান চা’য়ে চুমুক দিতে দিতে মেয়ের কথা শুনলেন।
মেয়েটা কি সত্যিই কারোর সাথে প্রেম করে? কথাগুলোও
আজকাল কেমন রহস্যময়ভাবে বলে। নাহ! এসব বিষয়ে
বেশী প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না। সময় করে ঠান্ডামাথায়
মেয়েটার সাথে আলোচনা করতে হবে। চা শেষ করে
রুপার হাতে কাপটা দিতে দিতে বললেন,
–শোন,টুম্পার সাথে বেশি কথা বলবি না। কাজের কথা ছাড়া
অপ্রয়োজনীয় কথা বলার দরকার নাই।
–আচ্ছা,বাবা আমি কি বাহিরে যাবো? আসলে,এতো সুন্দর
করে সাজলাম তো…
–আমি একটু ঘুমোবো, দুপুরে ইলেকট্রিশিয়ান আসবে
মোটর ঠিক করতে,সাথে টুম্পার ঘরে ফ্যানের লাইন ও করে
নিস্। আর একটা কথা…
–কি?
–এখন একটু বাহিরে ঘুরাঘুরিটা কমাও। তুমি এখন বড় হচ্ছো।
–আর কিছু?
–হ্যাঁ,দেখতো রিমোর্টটা খুঁজে পাস কি না! সকাল থেকে
খুঁজতেছি,খুঁজে দিলে ভালো হয়।
বাবার কথা শুনে রুপার ভিষণ হাসি পাচ্ছে,দিন দিন তার বাবা মনে হয়
পাগল হয়ে যাচ্ছে,অনেক কষ্টে বাবার সামনে হাসিটা চেপে
রেখে বললো,
–খুঁজে দিতে পারি যদি ফুসকা খাওয়ার টাকা দাও।
— নিজের বাবার কাজ করতেও পারিশ্রমিক নিতে হবে? তাহলে
টুম্পাকে টাকা দিয়ে রেখেছি কেনো?
–তোমার আবার নিজের মেয়েকে টাকা দিতে আপত্তি
কোথায়?
–ঠিক আছে,খোঁজ…
–বাবা,তুমি দিন দিন ভুলোমনা হয়ে যাচ্ছো,নিজের হাতে
রিমোর্ট রেখে সারাবাড়ি খুঁজলে কি আর রিমোর্ট খুঁজে
পাওয়া যায়?
ড.রহমান খেয়াল করলেন,তার হাতে আগে থেকেই
রিমোর্ট ছিলো। তিনি অবাক হয়ে মেয়ের দিকে
তাকালেন,মেয়েটা কি ভাবছে? নিশ্চয় হয়তো ভাবতেছে,তার
বাবা দিনদিন পাগল হয়ে যাচ্ছে।
নাহ! তার স্বরণসক্তি সত্যিই কমে যাচ্ছে। নাপিত যেমন নিজের
চুল নিজে কাটতে পারেন না,ডক্টরও তেমন নিজের চিকিৎসা
নিজে করতে পারেন না। খুব শিগ্রই তাকে কোনো
সাইক্রিয়াটিষ্টের সাথে দেখা করতে হবে।
–বাবা,আর কোনো কাজ থাকলে বলো,আমি রুমে যাবো।
চেইঞ্জ করতে হবে…
–আর কিছু না,তুই যা
–ঠিক আছে।
–রুপা শোন…
–আবার কি বাবা? এবার কিছু কাজ থাকলে আরো ডাবল ফুসকা
খাওয়ার টাকা দিতে হবে।
উফফ্! এই মেয়েটাও কেমন যেনো বড় মাপের ফুসকা
খাদক। বাড়িতে যদি মানুষ মরেও যায় তার মাথায় ফুসকা খাওয়ার ভুত
চাপলে সে ফুসকা খেতে চলে যাবে। এমনকি অনেক
রাতেও যদি তার ফুসকা খেতে ইচ্ছা করে তখনো তাকে
ফুসকা খেতেই হবে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে ভালো
পাত্র না খুঁজে কোনো ফুসকা ওয়ালার সাথে তার বিয়ে দিয়ে
দিলে ভালো হয়।
–বাবা কি হলো? তাড়াতাড়ি বলো কি কাজ?
–কিছুনা,বলছি নিচে দরজার সামনে রাস্তায় একটা ছেলে ঘুরঘুর
করছে প্রায় আধাঘন্টা ধরে। ওকে কি তুই চিনিস?
–কই না তো!
রুপা কখনো মিথ্যা কথা বলে না,কিন্তু আজ বললো। হাসিব রুপার
জন্যই নিচে অপেক্ষা করছে। হাসিবের একটা ছোট্ট ডাক নাম
দিয়েছে-“হিবু”। “হিমু” হুমায়ূন আহম্মেদ এর একটা
সিরিজ,যেখানে হিমুর প্রেমিকার নাম লিখলে অবশ্যই “রুপা” নামটা
লিখতে হবেই। হিমু শুধুই রুপার প্রেমিক। হিমু নামের সাথে মিল
করেই “হিবু”নামকরণ করেছে। আজ তাদের ঘুরতে যাওয়ার কথা
ছিলো,কিন্তু বাবার কারণে বাধা পড়লো…
–আচ্ছা ঠিক আছে,ঘরের জানালা বন্ধ করে রাখবি বুঝলি?
–আচ্ছা,
–আমার ফোনের সময়টা ঠিক করে দিয়ে যাস তো!
–ফোনটা দাও…
ড.রহমান ফোনটা বের করে রুপার হাতে দিয়ে টিভিতে
চ্যানেল পাল্টাতে লাগলেন। রুপা কিছুক্ষণ ফোন টেপাটিপি
করে ড.রহমানের হাতে ফেরত দিলো।
–হয়ে গেছে বাবা,
–হুম,এখন যা…আর,যাবার সময় টুম্পাকে একটু ডেকে দিস্।
–আচ্ছা।
রুপা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। ড.রহমান অনেকবার
ভেবেছেন টুম্পাকে ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু,ঢাকা
শহরে বুয়া পাওয়াও মুশকিল। একবার একটা বুয়াকে অনেক
খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলো। কিন্তু,তিনি জানতেন না যে,বুয়া
কানে কম শোনে।
ড.রহমান একবার পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন। রুপা বাবাকে
তুলে বিছানায় শোয়াতে শোয়াতে বুয়াকে মলম আনতে
পাঠায়।
বুয়া খুুব দ্রুত ছুটে গেলো মলম আনতে আর,ফিরে এলো
কলম হাতে নিয়ে। রুপা মলম চাইলো,
–কি ব্যাপার মরর্জিনা! মলম কই?
–এই যে আফা কলম,আচ্ছা আফা”মানুষটার ব্যাথা
লেগেছে,আপনি মলম না লাগায়ে কলম দিয়া কি করবেন?”
আপনাদের বড় নোকেদের ব্যাপার-স্যাপার আমার মাতায়
কিচুতেই ডোকেনা। এই নেন কলম…
রুপা ড্যাব ড্যাব করে বুয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। বুয়া সানন্দে
কলমটা রুপার দিকে বাড়িয়ে ধরে আছে। ড.রহমান কোমড়ের
ব্যাথায় কাঁদবেন নাকি বুয়ার কান্ড দেখে হাসবেন কিছু বুঝতে
পারছেন না। সে দিনই ড.রহমান ঠিক করেছিলেন এই বুয়াকে তিনি
আর রাখবেন না,তাই আবারো বুয়া খুঁজতে লাগলেন।
এই দিকে এই বুয়ার পাগলামিও বেড়েই চলেছে।
একদিন ড.রহমান বাজারে যাবেন,বাজার যেনো ছেড়ে না
আসেন এ জন্য তার লিষ্ট করা প্রয়োজন হয়। ড.রহমান বুয়াকে
খাতা আনতে পাঠালেন,বুয়া হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গেলো খাতা
আনতে।
একটু পর বুয়া ছাতা নিয়ে হাজির।
–কি রে মর্জিনা,ছাতা দিয়ে কি করবি? খাতা কই?
–আপনেই তো আনতে কইলেন। আমিও তো বুচতেছিনা
বৃষ্টি নাই,রোদও নাই,ছাতা দিয়া আপনে কি করবেন?
–পাবনায় কি তোর কোনো আত্ত্বিয় থাকে?
বুয়া অবাক দৃষ্টিতে ড.রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে
হচ্ছে সে ড.রহমানের কথা শোনেনই নি। ড.রহমানের এখন
ইচ্ছা করতেছে ছাতাটা হাতে নিয়ে বুয়ার মাথায় দুইটা বাড়ি দিয়ে
বলতে যে,তিনি ছাতা নয়,খাতা আনতে বলেছিলেন। নাহ! আর
সহ্য করা যায় না।
পরে অনেক খোঁজাখুজি করে এই টুম্পাকে পাওয়া গেলো।
কিন্তু একেক জনের একেক সমস্যা। টুম্পা আগের বুয়ার
মতো কানে কম শোনেনা ঠিকই কিন্তু,এ যে অতিরিক্ত বাচাল
প্রকৃতির এটা জানতে আর বেশি দেরি হলো না। উফফ্! কথায়
কথায় রাক্ষসিদের মতো হা হা হো হো করে হাসে,অসহ্য
লাগে।
–খালুজান,আমারে ডাকছেন?
–সারাক্ষণ কি এমন করিস যে,সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললো
অথচ খাবার রেডি হয়নি?
–আসলে খালুজান,খালাম্মা না থাকার জন্যেই এমন গোলমাল
হইচে। রান্না তো খালাম্মায় করতেন,আমি শুদু উনারে হাতে
হাতে এগিয়ে দিতাম। এখন তো তিনি নাই তাই একটু দেরি
হয়েচে,একা একাই রান্না করলাম তো তাই। রান্না
হয়েছে,আসেন খেতে আসেন,আমি খাবার বারতেচি…
টুম্পা খাবার বাড়তে চলে গেলো। ড.রহমান আর কোনো
কথা বললেন না। তিনি এখন স্ত্রী রেহেনার গুরুত্ব বোঝার
চেষ্টা করতেছেন।

রুপা চুপচাপ নিজের ঘরে বসে আছে। অডিও প্লেয়ারে গান
চলতেছে-“যদি মন কাঁদে,তবে চলে এসো…চলে
এসো,এক বরষায়…যদি মন কাঁদে….”
রুপার মন খারাপ হলেই সে এমন চুপচাপ বসে গান শোনে।
আজও তার মন খারাপ। হাসিব যে বাহিরে কি করতেছে কে
জানে!
ও কি এখনো আছে নাকি চলে গেছে? টুম্পা চা নিয়ে
এলো রুপার জন্য।
–আফামনি,এই লন আফনের চিনি ছাড়া মধু মেশানো চা।
–রাখ ওখানে,
–আফামনি,কিছু কি হয়েচে?
রুপার আর কথা বলতে ইচ্ছা করতেছেনা,আপাতত গানের
কথাগুলোই মনোযোগ দিলো। মন খারাপ হলেও তা টুম্পাকে
বলার প্রয়োজন মনে করতেছেনা রুপা। রুপা খুব
ভালোকরেই জানে যে,টুম্পাকে কিছু না বললেও ও কথা
বলতেই থাকবে। তাই হলো,চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে
আবার বললো,
–আফামনি,আপনের মনডায় কি আইজ বেশিই খারাপ?
–কেনো?
–না মানে,আপনে তো মন খারাপ হইলেই এসব গান
শোনেন,বুকের ভেতর কেমন যেনো করে এমন গান
শুনলে।
–হুম,বাবা কি করছে রে?
–টিবি দেকতিচেন…
–টুম্পা,একটা কাজ করতে পারবি?
–আফামনি,এমন কোনো কাম নাই যা এই টুম্পা করতে পারে না।
শুদু একবার বলে দেকেন। যদি বলেন টুম্পা,ছাঁদে উঠে
চোখ বন্ধ করে নিচে ঝাপ দাও। আমি এক্ষুনি ছুটে যাবো
আর কিচুক্ষণ পর খালুজান আমারে টিবিতে দেকতে পারবো।
তবে মরার আগে আমার শেষ ইচ্চা আছে…
–কি?
–মরার আগে আমারে সুন্দর কইরা সাজায়ে দিতে
হইবো,বড়মোড়ের ঐ পাল্লারে যেমনডা সাজায়…
–মরেই যাবি তাহলে সেজে কি লাভ?
–আরে আফামনি,সুইচাইডের মরার খবর পেপারে ছাপা হয়,টিবিতে
দেকানো হয়,আমার ছবিগুলো যদি খারাপ ওঠে তাহলে তো
আফা মইরেও শান্তি পামুনা…
রুপার মন খারাপ থাকা সত্তেও সে হেসে ফেললো।
–তোকে এমন কিছু করতে হবে না,আমি শুধু তোকে একটা
কাগজ দেবো,সেই কাগজটা একজনকে দিতে হবে।
–ও এই কথা! আপনে যদি কাগজ না দিয়া হাতে বোম ধরায়ে দিয়া
বলতেন যে,যাও টুম্পা বোমটা এক জায়গায় ব্লাষ্ট করে
এসো,তাহলে ও আমি কোনো প্রশ্ন না করে কাজ সমাধা
করে আসতাম। কিন্তু,এটা তো কাগজ চালানের কাজ তাই ছোট্র
একটা প্রশ্ন জানার ইচ্চা হইচে…
–কি?
–আফামনি,এইডা কি কোনো পত্র?
–হুম…
–জরুরি পত্র নাকি প্রেমপত্র?
–দুটোয়
–তারমানে,জরুরি প্রেমপত্র মানে ইমারজান্সি কেস্। এইটা তো
তাহলে তাড়াতাড়িই ডেলিভেরি দিতে হবে। কিন্তু,পত্রখানা
কোথায় কাকে পৌছাইতে হবে তা তো কইলেন না!?
–নিচে গিয়ে দেখ হলুদ পাঞ্জাবি পড়া একটা ছেলে দারিয়ে
আছে,চুল খড়ের গাদার মতো উসকো খুসকো,হাতে
কালো রঙ্গের হাতঘড়ি তাকেই এই চিঠিটা দিবি। আর হ্যাঁ,এই ব্যাপারটা
যেনো অন্য কেও না জানে…
–ঠিক আছে আফামনি,আমি এই যামু আর এই আমু। আপনে নিঃশ্চিন্ত
হয়ে চা খান,ডরায়েন না আমি আছি। খালুজান এ সবের কিচুই
জানবো না।
রুপা জানে,আজ না হয় কাল এই টুম্পাই কথার ছলে সবাইকে বলে
বেড়াবে,মেয়েটার পেটে কোনো কথাই থাকেনা। রুপাও
তাই চায় যে,বাবা জানুক।নিজের প্রেমের কথা নিজেমুখে
বলতে একটু লজ্জা লাগবে,তাই ভালো হয় যদি টুম্পা সব ফাঁস
করে দেয়।
–আফামনি,কি ভাবতেছেন? দোয়া কইরেন,আমি যেনো
সফল হই…
এই বলেই টুম্পা রুপার পা ছুয়ে লম্বা একটা সালাম করলো। মনে
হচ্ছে টুম্পা চিঠি দিতে নিচে নয়,ঢাল তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ
করতে যাচ্ছে পলাশির মাঠে।
(চলবে…)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ