• মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১৭ অপরাহ্ন
  • English Version
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

গ্লোবের ভ্যাকসিন ব্যানকোভিডের ‘সাফল্য’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন রোববার

সংবাদ২৪ ডেস্ক
আপডেট শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০

গ্লোবের ভ্যাকসিন ব্যানকোভিডের ‘সাফল্য’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন রোববার
দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা উদ্ভাবনের দাবিদার গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের উদ্ভাবিত করোনা ভ্যাকসিনের নাম দিয়েছে ‘ব্যানকোভিড’ (ডি৬১৪জি ভ্যারিয়েন্টস এম-আরএনএভিত্তিক ভ্যাকসিন)। গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, তাদের এই ভ্যাকসিন প্রাণীদেহে অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরি পরিচালিত ‘বায়ো আর্কাইভ’ সার্ভারে তাদের এ সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধ ছাপা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রবন্ধটি প্রকাশ পায়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) বিভাগের প্রধান ড. আসিফ মাহমুদ সারাবাংলাকে এ তথ্য জানিয়ছেন। প্রাণীদেহে দুই দফা ‘ব্যানকোভিড’ প্রয়োগের ফল বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে বায়ো আর্কাইভের নিবন্ধটিতে।

বায়ো আর্কাইভ অবশ্য কোনো ‘পিয়ার রিভিউড’ জার্নাল নয়। ‘পিয়ার রিভিউড’ জার্নালে কোনো গবেষণা প্রতিবেদন বা নিবন্ধ প্রকাশের আগে জমা দিলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা (রেফারি নামে ডাকা হয়) সেটি পর্যালোচনা করেন। গবেষণার প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে গবেষণা পদ্ধতি, ফলাফল বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াসহ গবেষণার যেকোনো ধাপ নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন থাকলে তা উত্থাপন করেন তারা। তাদের সেসব প্রশ্নগুলোর মীমাংসা করার পরই কেবল স্বীকৃত ‘পিয়ার রিভিউড’ জার্নালগুলো গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করে থাকে। ফলে সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন থাকে না।

অন্যদিকে, বায়ো আর্কাইভকে (bioRxiv) বলা হয় ‘প্রিপ্রিন্ট সার্ভার’। জীববিজ্ঞান বা চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো গবেষণার ফল দ্রুত তুলে ধরতে এই সার্ভার ব্যবহার করে থাকেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। এর কারণ হলো ‘পিয়ার রিভিউড’ জার্নালগুলো ‘রেফারি’দের পর্যবেক্ষণ ও গবেষণকদের সেগুলোর সমাধান করার পেছনে বড় একটি সময় চলে যায়। সেই ‘রিভিউ’ প্রক্রিয়া কঠোর নয় বলে বায়ো আর্কাইভে দ্রুতই গবেষণার তথ্য তুলে ধরা সম্ভব হয়, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের বিজ্ঞানীরা পরবর্তী সময়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে থাকেন। যে কারণে বায়ো আর্কাইভ নিজেও বলছে, তাদের সার্ভারে প্রকাশিত নিবন্ধ ‘পিয়ার রিভিউ’ দ্বারা সার্টিফায়েড নয়। অর্থাৎ এটি সংশ্লিষ্ট খাতের অন্য গবেষকদের অনুমোদিত নয়। তারপরও জীববিজ্ঞান খাতের নিত্যনতুন উদ্ভাবনমূলক গবেষণার প্রাথমিক তথ্য অনেক প্রতিষ্ঠানই শুরুতে বায়ো আর্কাইভেই প্রকাশ করে থাকেন, যেন তা দ্রুতই এই খাতের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানীরা বায়ো আর্কাইভে নিবন্ধ প্রকাশের তথ্য জানালেও ওই নিবন্ধের বিস্তারিত জানাতে নারাজ। রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় প্রতিষ্ঠানটির তেজগাঁও করপোরেট কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তাার। এর আগে প্রাণীদেহে প্রাথমিক ট্রায়ালের পর নিয়ন্ত্রিত (রেগুলেটেড) প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়েছে গ্লোব। সেটি সফল হওয়ায় এবার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলছে। এসব বিষয় ‍তুলে ধরা হবে রোববারের সংবাদ সম্মেলনে।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি অপারেশন্সের ম্যানেজার ও ইনচার্জ এবং ভ্যাকসিন উদ্ভাবন গবেষক দলের সদস্য ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের গবেষণার সর্বশেষ অগ্রগতি একটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালে (বায়ো আর্কাইভ) প্রকাশিত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে টিকার নিয়ন্ত্রিত প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর সারাবাংলার সঙ্গে আলাপকালে গ্লোব বায়োটেকের ডা. আসিফ মাহমুদ বলেছিলেন, তারা প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে সাফল্যের কথা গণমাধ্যমে ‍তুলে ধরেছিলেন। এরপর রেগুলেটেড অ্যানিম্যাল ট্রায়াল বা প্রাণীদেহে নিয়ন্ত্রিতভাবে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ করেছেন তারা। এই ট্রায়াল শেষে ওই সময় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছিল। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে বিশ্লেষণের পর মানবদেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বর মাসেই শুরু করার বিষয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে গত ১ জুলাই গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্লোব বায়োটেক জানায়, তারা দেশেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে জন্য কাজ করছে। ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরই তারা এর ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজ শুরু করে।

পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব ঘোষণা দেয়, প্রাণীদেহের ওপর এই ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের ট্রায়াল তারা সফলভাবে শেষ করেছে। পরবর্তী ধাপগুলো ঠিকঠাকমতো সম্পন্ন করতে পারলে ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে তারা টিকা বাজারজাত করতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ