• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • English Version
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

ড্রাইভিংয়ে ফের সালাউদ্দিন ফুটবলে গতি বাড়বে কি?

সংবাদ২৪ ডেস্ক
আপডেট সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) স্টিয়ারিং আবারো কাজী সালাউদ্দিনের হাতে। টানা চতুর্থবারের মতো দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন তিনি। টানা চতুর্থবারের মতো বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ ফুটবলের গতি চলমান ধারার মতোই ধীর থাকবেÑ না বাড়বে সেই প্রশ্ন ক্রীড়াবোদ্ধাদের মনে।
গত কয়েকদিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-বাফুফের নির্বাচনে চোখ ছিল সারা দেশের। নাটকীয়তা রেখে প্রার্থিতা প্রত্যাহার, শেষ মুহূর্তে নিজেকে সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করে পরিবর্তনের আভাস দেন বাদল রায়। এ নিয়ে তৈরি হয় নানা গুঞ্জন। তবে সব গুঞ্জনে ঘি ঢেলে আবারো চতুর্থবারের মতো সভাপতি পদে নির্বাচিত হন কাজী সালাউদ্দিন।
শনিবার বিকাল ৩টা থেকে রাজধানীর একটি হোটেলে বাফুফে নির্বাচন ঘিরে পুরো ক্রীড়াঙ্গনে ছিল উত্তেজনা। ভোট চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ১৩৯ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ভোট দেন ১৩৫ জন। মোট ৯৪টি ভোট পেয়ে আবারো সভাপতি নির্বাচিত হন কাজী সালাউদ্দিন। শেষ মুহূর্তে নিজেকে সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করা বাদল রায় পেয়েছেন ৪০টি ভোট। মাত্র এক ভোট পেয়েছেন আরেক প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মানিক।
২০০৮ সালে প্রথমবার বাফুফের সভাপতির আসনে বসেন কাজী সালাউদ্দিন। সেবার হারান ক্রীড়া সংগঠক আমিন আহমেদ চৌধুরীকে। ২০১২ সালে অনেকটা কৌশলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সভাপতি হন। এরপর ২০১৬ সালে আবারো প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ে ৩৩ ভোটের ব্যবধানে হারান ব্যবসায়ী কামরুল আশরাফ খান পোটনকে। এবার বিজয়ী সাবেক তারকা ফুটবলার বাদল রায়কে হারিয়ে। বিগত তিন আসরে তার সময়ে সাফ গেমস ও সাফ ফুটবলে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয় জাতীয় ফুটবল দল। এমনকি ফিফা র‌্যাংকিংও ২০০ ঘরের কাছে পৌঁছে যায়। তবে নির্বাচন এলেই যেন দুর্বার হয়ে ওঠেন এ স্টাইকার। প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে জয় তার ঘরে তোলেন। ২১ পদের নির্বাহী কমিটির মধ্যে সালাউদ্দিনের প্যানেল ইতোমধ্যে ১৪ পদে জয়ী হয়েছে। সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সহসভাপতি পদে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও সদস্য পদে ভেলকি দেখিয়েছে সমন্বয় পরিষদ। ১৫ সদস্যের মাঝে ছয়জন এসেছে অন্য প্যানেল থেকে। অনেকে আবার নির্বাচিত হয়েছেন প্রথমবারের মতো। ফুটবলে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখেন তারাও। কাজ করতে চান একসঙ্গে।
সালাউদ্দিন হঠাও, ফুটবল বাঁচাও কিংবা পরিবর্তনের ডাক। ভোট কেন্দ্রের বাইরে সমর্থকদের মানববন্ধন। কোটি সমালোচকদের মুখে একরকম ছাই দিয়ে টানা চতুর্থবার বাফুফের দায়িত্ব সালাউদ্দিন-সালাম মুর্শেদীরা। কথার লড়াইয়ে হাঁকডাক দিলেও ডেলিগেটদের মন ভরাতে পারেনি প্রতিপক্ষ শিবির। ভোটের লড়াইয়ে অনেকটা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেন সালাউদ্দিন প্যানেলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা। তবে ফুটবলকে ভালোবেসে যারা কাজ করতে এসেছিলেন, হেরে গেলেও তাদের নিয়েই কাজ করতে চান সালাউদ্দিন-সালামরা। ভোটের মাঠেই দাঁতভাঙ্গা জবাব দিলেন কাজী সালাউদ্দিন। টানা চতুর্থবারের মতো তাকে দেশের ফুটবলের মসনদের অধিপতি বানালো কাউন্সিলররা। আরও একবার সুযোগ দিল অপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার। নির্বাচনের আগে সালাহউদ্দিন এ দফায় নির্বাচনে জিতলে দেশের ফুটবলের চূড়ান্ত কবর রচিত হবে বলেছিল সমালোচকরা। তবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর ফুটবলাররা বলছেন, সমালোচনা নয়Ñ এবার কাজ করতে হবে সবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। সম্মিলিত প্যানেলের বাইরে থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা ফুটবলের লোক, যারা নির্বাচিত হতে পারেনি তারাও ফুটবলের উন্নয়ন চায়। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে সামনের সময়গুলোতে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন নবনির্বাচিত সভাপতি। ফুটবলকে এগিয়ে নেয়োর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
নির্বাচনের আগে কথার ফুলঝুরি ফোটায় সবাই। পরে আর তার দেখা যায় না বাস্তবায়ন। সাবেকদের শঙ্কাটাও ঠিক সেখানেই। কাজী সালাউদ্দিন যেখানে তিন যুগে করতে পারেননি অনেক কিছুই, সেখানে আরেক দফায় কেন আবার? তবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার আশা দেখিয়ে আরো একবার কাউন্সিলরদের সমর্থন পেল কাজী সালাউদ্দিন পরিষদ। প্রচারণা আর আশ্বাসে মন ভরাতে পেরেছে এ পরিষদ।
শেষবারের মতো সভাপতি পদে প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিন। প্যানেলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী। চার সহ-সভাপতি পদে কিছুটা চমকই। তবে সবচেয়ে চমক নতুন মুখ শিল্পপতি আতাউর রহমান মানিক সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসা। সালাউদ্দিন প্যানেলের আরেক নতুন মুখ বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান। যিনি প্রথমবার নির্বাচনে এসেই সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। বরাবরের মতো আছেন কাজী নাবিল আহমেদ। সদস্য পদে সালাউদ্দিন প্যানেলে জয়ী হয়েছেন বেশ কিছু অভিজ্ঞ সংগঠক। আবাহনীর প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, বর্তমান জাতীয় দলের ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপু। নারী ফুটবলে সাফল্য এনে দেওয়া সংগঠক মাহফুজা আক্তার কিরণ।
ফুটবলের উন্নয়নে ইশতেহারেও রাখা হয়েছে লম্বা আশ্বাস। ঘরোয়া, মহিলা, টেকনিক্যাল দিকের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় ফুটবল দল নিয়ে। যেখানে বলা হয়েছে সাফ, এসএ গেমসের গৌরবে
পুনরুদ্ধার। আর ২০২৪ সালের মধ্যে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৫০-এর নিচে নিয়ে আসা। উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চারটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরি করা। তবে গত ১২ বছরে অর্থের অভাবে সালাউদ্দিন প্যানেল তৈরি করতে পারেনি একটি জিমনেশিয়াম। এবারও রাখা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের একটি জিম তৈরির আশ্বাস।
প্রতিবারের মতো এবারো নির্বাচনের আগে প্রত্যাশার ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন কাজী সালাউদ্দিনের সম্মিলিত পরিষদ। তবে বার বার দেশের ফুটবল সমর্থকদের আশায় হয়েছে গুড়ে বালি। সেই হতাশা এবার কাটাবেন। মনোযোগ দেবেন ফুটবলারদের পারিশ্রমিকে। এমনটাই চাওয়া বর্তমান ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলারদের। বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে আগামী চার বছরে সালাউদ্দিনের ৩৬ দফা এবার কার্যকর হবে কিনা এটাই এখন দেখার বিষয়। এনএমএস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ