• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
  • English Version
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

রাতকানা রোগ এখন এক শতাংশের নিচে

সংবাদ২৪ ডেস্ক
আপডেট সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

প্রতি বছর জুনে ভিটামিন ‘এ- প্লাস’ ক্যাম্পেইন শুরু হলেও এবার করেনার কারণে গতকাল শুরু হয়েছে। রবিবার এ ক্যাম্পেইন উদ্ধোধন করা হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দুই কোটি বিশ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ফলে রাতকানা রোগ এখন শতকরা এক শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। যা স্বাধীনতার পর চার শতাংশে ছিল। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ছয় মাস বয়স থেকে ৫৯ বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
গতকাল ঢাকা শিশু হাসপাতালে ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের অভাবে শতকরা চার শতাংশের বেশি শিশু রাতকানা রোগে ভুগতো। অনেক শিশু অন্ধ হয়ে যেত। আজ সে অবস্থা নেই, পরিবর্তন হয়েছে। রাতকানা রোগ এখন শতকরা এক শতাংশের নিচে, আগামীতে এটাও থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৪ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী ধাপে ধাপে সারাদেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশজুড়ে এই ক্যাম্পেইন চলবে। আর ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত আরও চার দিন দুর্গম এলাকায় চলবে এই ক্যাম্পেইন।
জাহিদ মালেক বলেন, ভিটামিন সবার জন্য প্রয়োজন, তার মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ‘এ’ কেবল রাতকানা প্রতিরোধ করে না, এর মাধ্যমে শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তবে একটি শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধ সবচেয়ে আদর্শ খাবার, পাশাপাশি দরকার অন্যান্য সুষম খাবার।
গতকাল সচিবালয়ে কর্মসূচি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতবছর ক্যাপসুলে সমস্যা দেখা দেয়ায় সেই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়। এবার পরীক্ষা করা হয়েছে, ক্যাপসুলে কোনো। সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপন করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীর কাছে আমার আবেদন ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর থেকে একটি শিশুও যেন বাদ না পড়ে। সকল শিশুকে যেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। কেউ বাদ পড়লেও তাদেরকে পরবর্তী সময়ে টিকা খাওয়ানো হবে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ক্যাম্পেইনে দুই লাখের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী অংশ নিচ্ছেন। সারাদেশে এক লাখ ২০ হাজার সেন্টারে প্রায় দুই কোটি বিশ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ছয় মাস বয়স থেকে ৫৯ বয়সী শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারীদের জন্যও এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশুরা সুস্থভাবে বেড়ে উঠলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের লাইন ডিরেক্টর ডা. এস এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত ৯৮ শতাংশ শিশু ভিটামিন ‘এ’ পাচ্ছে। তবে এই ক্যাপসুল খালি পেটে নয়, খেতে হবে ভরা পেটে। তাহলে আর তাদের সমস্যা হবে না। পাশাপাশি যেসব শিশু অসুস্থ তাদের এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে না, তারা সুস্থ হলে খাওয়ানো হবে। তিনি আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একেক দিন একেক কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তিন দিন আগে স্থানীয় প্রশাসন এই সূচি ঘোষণা করবে। তবে এ বছর অন্যান্য বছরের মতো কোনও ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র থাকছে না। প্রতি সপ্তাহে যে সব কেন্দ্রে ইপিআর টিকার কার্যক্রম থাকবে, সে সব কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকবে। সেই হিসেবে প্রতি সপ্তাহে চার দিন করে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলবে।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চলতি বছর করোনা মহামারির কারণে গত জুনে এই ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়। একইসঙ্গে সব শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে কিনা সে বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশে করে তিনি বলেন, যেহেদু আট দিনের ক্যাম্পেইন, আমরা আশা করছি, ৯০ শতাংশ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো সম্ভব হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ক্যাম্পেইন চলাকালে করোনার সাবধানতা হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সার্জিক্যাল মাস্ক সরবরাহ করা হবে। ছয় থেকে ১২ মাস বয়সী আনুমানিক ২০ লাখ ৪০ হাজার শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় এক কোটি ৯৩ লাখ শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ছয় মাসের কম এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সী কোনও শিশু অসুস্থ থাকলে তাকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে না। ক্যাম্পেইন চলাকালে কোনও শিশু বাদ পড়লে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়াবেন।
ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে তাই নয়, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায় এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত সমস্যা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় পুষ্টি সেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান প্রতি বছরই জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন করে থাকে। তবে ক্যাম্পেইনের দিনে ছয় মাসের কম বয়সী, পাঁচ বছরের বেশি বয়সী, চার মাসের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পেয়েছে এমন শিশু এবং অসুস্থ শিশুদের ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। এনএমএস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ