• মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
  • English Version
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

শাশুড়ি কান্ড (পর্বঃ০১)

লেখক: মোঃসারোয়ার হোসেন(হাবীব)
আপডেট মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

“মরণ দশা! আমার হয়েছে যতো জ্বালা!
দেখো আজকের দিনেও বুড়োটার ঘুম ঠিকই আছে,একমাত্র বউটা যে গত হলো,সে দুঃখ কষ্ট বুড়োর আছে কিনা সেটাই তো দেখতে এলাম।
মরণ দশা! বেঁচে থাকতেও আমার হাড় জ্বলেছে এই বুড়োর জন্য,মরে গিয়েও এই ঘুম দেখে আমার হাড় জ্বলছে।মনে হচ্ছে গলাটা টিপে ধরি বুড়োর”
এমন সময় বুড়ো ভদ্রলোক হাই তুলে ঘুম থেকে উঠে বসে খাটের লাগোয়া টেবিলের ওপরে থাকা স্বামী-স্ত্রীর অল্প বয়সের একসাথে তোলা ছবিটা বুকে জরিয়ে বলতে লাগলেন,
-ও অঞ্জলি গো…ঘুম টা আজ আর হবে না গো,একবারটি ফিরে এসো,কথা দিচ্ছি আর ঝগড়া করবো না,এই ছবিটার মতো বুকে জরিয়ে রাখবো তোমাকে।
জানি আর আসবেনা,বড় অভিমানি ছিলে যে,আরকি আসবে? একবারটি যদি দেখতে পেতাম তোমার চাঁদপানা মুখটা…
বলতে বলতে বুড়ো ভদ্রলোক কাঁদতে লাগলেন।

“মরণ দশা! কত্ত সোহাগ এখন! কাঁদো নিমাই মুখোজ্যে কাঁদো,
দাঁত থাকতে তো দাঁতের মর্ম কোনোদিন বুঝলে না,
বুড়ো বয়সে বোঝো কতো ধানে কত চাল।
মরণ দশা! আমি যাই এবার একটু আমার প্রিয় ছোট বউমার ঘরে যাই,ও নিশ্চয় আমাকে হারিয়ে কেঁদে ভাসাচ্ছে গো,বড্ড শাশুড়িঅন্ত প্রাণ ছিলো আমার।
কি ভালোটাই না বাসতো,যা খেতে চাইতাম তাই খাওয়াতো,মুখে একটা মিষ্টি চাইলে চারটে লুকিয়ে এনে দিতো।
মরণ দশা! ঐ বড় বউটার মতন নাকি! ছোটলোক বাঁজা মেয়ে,ভিখারী চোর বংশের মেয়ে। কি একটু সুগার হাই প্রেসার শুনেছিলো ব্যাস আনন্দে আত্বহারা,
যাই খেতে যেতাম তাতেই জ্ঞানের বাণী শোনাতো,
মা এটা খাবেন না মা এটা খেলে শরীর খারাপ করবে আপনার,বদমাঈস বউ কোথাকার!
মরণ দশা! নে গেল্ এবার একা একা, আমার ভাগের গুলোও গেল্,আমি তো মরেই গেলাম আর তো ভালো-মন্দটা খেতে আসবো না তোদের কাছে। ছাই পড়ুক শয়তান বড় বউটার মুখে”-এই বলে অশরীরি কনকাঞ্জলি দেবী হুস করে উড়ে চলে এলেন আদরের ছোট বউমার ঘরে।
এসে মনে হলো-“ও বাবা,মরণ দশা!আমি তো উড়তে পারছি,
পারবোই তো! এখন তো আমি মরে ভুত,ভুতেরা তো উড়তে পারে”
এই তো আমার ছোট বউমার ঘর,বলে যেই ভেতরে ঢুকতে যাবেন
দরজা ঠেলে দেখলেন ঘর ভেতর থেকে বন্ধ,
“এই এক বাজে স্বভাব মরণ দশা! সর্বদা দরজা আটকে বসে থাকবে,
আহা গো আজ নির্ঘাত বেচারী কেঁদে ভাসাচ্ছে আমার জন্য,কিন্তু দরজাতো ভেতর থেকে বন্ধ ঢুকবো কি করে?”
এই ভেবে অনেক চিকন সুরে ছোটো বউমা অর্থাৎ মীরার নাম ধরে ডাকলেন,
কিন্তু কারো সারা শব্দ না পেয়ে বুঝে গেলেন উনার গলা কেউ আর শুনতে পাবেনা।
ভ্রুটা কুঁচকে খুব দুঃখ মাখানো গলায় বললেন,
-“মরণ দশা! মরা মানুষের আওয়াজ মনে হয় কেউ শুনতে পায় না।” বলেই হাতটা দিয়ে জোরে দরজায় আঘাত করতেই দেখলেন তার হাতটা অনায়াসেই দরজা দিয়ে ঢুকে গেছে।
মনে মনে ভাবলেন,
“মরণ দশা! হাতটা যখন ঢুকে গেলো তারমানে দেহটাও তাহলে ঢুকে যাবে”
যেমন ভাবা তেমনি কাজ….আর একটা হাত ও ঢুকিয়ে দিলেন সেটাও ঢুকে গেলো। মরণ দশা! অঞ্জলী দেবীর উৎফুল্ল আর দেখে কে!
-“মরণ দশা! বেশ মজা তো! মরে গিয়ে এখন আমি যেখানে চাইবো যেতে পারবো…কি মজা মরণ দশা” বলেই হুস করে ঢুকে গেলেন ছোটো ছেলে-বৌমার ঘরে…
-“মরণ দশা! এই তো আমার লক্ষি বউমা,যাক খোকা(অভ্র)ও আছে দেখছি,রাত বারোটা বাজে,ছোট বৌমা আবার এই রাত বিরেতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে কি করছে,দেখিতো….
হ্যাঁ,মরণ দশা আজ সকালেই যার শাশুড়ির সৎকার করা হয়েছে সে কিনা বসে বসে সাজছে!! ওমা গো গলায় একটা ভারী সোনার হার মনে হচ্ছে,
কাছে গিয়ে দেখিতো মরণ দশা…একি!! এ তো আমার হারিয়ে যাওয়া সেই সাতনরী হারটা,
এটা ছোট বৌমার কাছে কি করে এলো?? এটা তো বছর চারেক আগে বড় বৌমার বোনের বিয়ের দিন হারিয়ে গিয়েছিলো ওদের বাড়ি থেকে।”
-আমি মিস ক্যালকাটা চাইনা দিতে ট্রিপস এখনো তো…লা লা লালা…এই অভ্র, দেখোতো কেমন লাগছে আমাকে??
অভ্র তৎক্ষণাৎ ই উত্তর দিলো-“দুর্দান্ত লাগছে মীরা”
-উফ্! তোমার মা মরার পর এতোদিনে হারটা গলায় দিতে পারলাম।
-প্লিজ মীরা,আজকেই মা কে দাহ করলাম আজ এ সব বলো না,তুমি সেদিন খুব খারাপ কাজ করেছিলে,তোমার জন্য বড় বউদির বাড়ির সবাই হেনস্তা আর আপমানিত হয়েছিলো।
আর তোমার পাপ ঢাকতে আমি নির্বাক শ্রোতা হয়ে দারিয়ে দেখেছিলাম সেদিন।
-হুস,ছাড়ো তো! এই হারটা আমার প্রথম দিন থেকেই ফ্যাভোরিট ছিলো,
যেদিন তোমার মা এটা পড়ে আমাকে বরণ করেছিলো সেদিন থেকেই নজরে নজরে রেখেছিলাম,
সুযোগ পেয়েছি ঝেপে দিয়েছি,দোষের কি আছে এতে?
আর শোনো বুড়িটাকে যতই তেল মারতাম না কেনো,বুড়ি কি আমাকে এই হারটা দিতো?
এটা গিয়ে জুটতো ঐ বড়দি (শ্যামা)অথবা মেজদি (সূবর্ণা) এর কপালে।
আমাকে কি দিতো নাকি! বদমাশ বুড়ি এক নম্বরের,বুড়িটা মরে এতোদিনে শান্তি পেলাম,
বুড়িকে বেশি করে মিষ্টিটা,খাসির মাংসটা গেলাতাম যাতে তারাতাড়িই বুড়ি পোটল তোলে,
এতোদিনে হাড় জুড়ালো আমার।
-“ওরে ওরে হতচ্ছারি,মরণ দশা তারমানে আমাকে ভালোবেসে খাবারগুলো দিতিস না!
মরণ দশা ইচ্ছে করছে তোর গলাটা টিপে দিতে,দারা দেখাচ্ছি মজা,
আজ তোর একদিন কি আমার একদিন”…এইটুকু বলেই অঞ্জলী দেবি ছোট বৌমার গলা টিপতে গেলেন ওমনি ছোট নাতিটা ঘুম থেকে জেগে কেঁদে উঠলো,এটা দেখে অঞ্জলী দেবী বললেন,
-“মরণ দশা,দুই বছরের নাতিটা আমার মা ছাড়া কি করেই বা থাকবে,যাহ নাতিটার মুখ চেয়ে এ যাত্রায় রক্ষে পেলি। মরণ দশা,যাই এবার মেজো খোকার ঘরে গিয়ে দেখি,মেজো বউমা নিশ্চয় কাঁদবে আমার জন্য,
আমাকে ও মন থেকেই তো ভালোবাসতো,তা না হলে দামী দামী শাড়িটা, মেচিং ব্লাউজটা টাকা খরচা করে কিনে দিতো না,
মরণ দশা গিয়ে দেখি তো ও কি করছে….
মরণ দশা এর ঘর ও তো দেখি বন্ধ,ও তো কোনোদিন ঘর বন্ধ রাখেনা,দেখিতো” বলেই কনকাঞ্জলি দেবী দরজা ভেদ করে
ঢুকে গেলেন মেজো ছেলে-বৌমার ঘরে।
(চলবে…)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ