• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
  • English Version
শিরোনাম:
শিবগঞ্জ বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলণ বগুড়ায় শাইখ সিরাজের কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুকরণে “আমাদের ঈদ আনন্দ” অনুষ্ঠিত গাবতলির আলোর সন্ধানী সমাজ কল্যান পরিষদের উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরন শিবগঞ্জের দাপুটে মাদক সম্রাট সিজু আটক “বন্যার্তদের মাঝে হিরো আলমের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ” ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন বন্ধু ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আরিফুল গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছেন গাংনগরের তরুনরা করোনার মাঝেই জমে উঠেছে গাংনগর কুরবানীর হাট জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ সাভার উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ শিবগঞ্জের অর্জুনপুর সেতুর নির্মাণকাজ

শাশুড়ি কান্ড (পর্বঃ০৩)

সংবাদ২৪ ডেস্ক / ১১৭ দেখেছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

বড়বৌ এর কান্না দেখে কনকাঞ্জলি দেবী বললেন,
-“আহা গো,বড় বউটা এতো ভালো ছিলো বেঁচে থাকতে চিনতে পারলাম না,
মরণদশা গরীবের মেয়ে বলে কতোই না হেলাচ্ছেদা করেছি কো। যে আমার ভালোর জন্য খেতে দিতো না,তাকেই ভুল ভেবে কতো কিই না বলেছি,আর ঐ পোড়ামুখী গুলো সব জেনেও মুখে টু শব্দটিও করেনি কো! বড় বৌএর মতো এতো ভালো মেয়েও হয়!! আমি না মরলে সংসারের এতো সব কান্ড আমার অজানাই থেকে যেতো মরণ দশা। হবে লো হবে ভালোমানুষের বেটি,তোর কোল এবার আলো হবেই হবে,আমি নিজেই আসবো তোর কোলে।
সংসারের এই অলক্ষিগুলোকে তো উচিৎ শিক্ষে দিতে হবে মরণ দশা। তোর দুঃখের দিন এ বার শেষ হবে লো বড় বৌ,মরণদশা যাই এ বার বুড়োর কাছে গিয়ে তাকে সব জানাই,নয়তো আমার সমস্ত গয়নাগাটি গুলো যদি ভাগ করে দেয়। মরণদশা হতচ্ছারি দুই বউ কে কিচ্ছুটি দিতে দেবোনে আমি।
এই বলেই কনকাঞ্জলি দেবী হুস করে উড়ে গেলেন তার স্বামী নিমাই মুখোজ্যের ঘরে।
তন্দ্রাচ্ছন্ন নিমাই বাবুর পাশে বসে জোরে জোরে ধাক্কা দিলেন অঞ্জলি দেবী,ধাক্কার চোটে নিমাই বাবু আধাঘুম চোখেই কষ্ট করে চোখ খুলেই হতভম্ভ হয়ে ভিরমি খাওয়ার দশা,ভূ…উ…ত…..বলে চিৎকার করতে যাবেন এমন সময় কনকাঞ্জলি দেবী উনার মুখ চেপে ধরে বললেন,
-“মরণ দশা! আমার হয়েছে যতো জ্বালা…এই তো কিছুক্ষণ আগেই কুঁকিয়ে মরছিলে ও আমার অঞ্জলি গো,একবারটি দেখা দাও গো…মরণদশা এখন যখন দেখা দিতে এলুম এখন আমাকে দেখে বুড়োর ভিরমি খাওয়া হচ্ছে”….
ততক্ষণে নিমাই বাবু তার মৃতা স্ত্রীকে নিজের পাশে দেখে তার চক্ষু চড়ক গাছ। কনকাঞ্জলি দেবীর এক ধমকে ভয়ে তিনি আরো কাঠ হয়ে গেলেন,আর মুখে অস্পষ্ট স্বরে রামনাম আর হনুমান চালিসা এলোমেলোভাবে জপতে জপতে প্রায় মূর্চ্ছা যাবার দশা…তার ঐ অবস্থাতেই অঞ্জলি দেবী তাকে আবারো ধমক দিলেন,
-“ঐ নিমাই মুখোজ্যে, যা বলছি এ বার তা মন দিয়ে শোনো…এ সব ভিরমি খাবার নাটক আমার সামনে চলবে না। মরণ দশা ও দিকে মুখ ফিরে আছো কেনো? চোখ খোলো…”
নিমাই বাবু পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেলেন। স্থির দুটো চোখ ফেরালেন কনকাঞ্জলি দেবীর মুখের দিকে,কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজেকে একটু একটু হালকা করে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললে,
-হ্যাঁ,ব…ব্বল..বলো কি বলতে এসেছো…?
-“শোনো বুড়ো,আমার যে মরণ দশা সাতনরী হারটা চুরি গেছিলো সেটা আমাদের গুণধরি ছোট বউয়ের কাজ ছিলো,আর আমাকে ভালো-মন্দ গিলিয়ে গিলিয়ে হার্টফেলটাও ও ই করিয়েছে,সব শুনে এলুম ওদের ঘর তেকে। মরণ দশা মেজো বউটিও এক নম্বরের ধরিবাজ বদমাশ বেরোলো!? দামী শাড়ীগুলো সব ও ই সরিয়ে ফেলেছে,কি কুৎসাটাই না করছিলো আমার নামে…মরণ দশা তাদের একমাত্র শাশুড়িখানা যে আজ গত হলো সে বিষয়ে তাদের কোনো দুঃখবোধ ই নেই গো,ওদের দুই বউকে একটিও গয়না দেবেনা বলে দিলুম। শুধু মরণ দশা তোমার যে দুটি আংটি আছে তুমি গত হলে তা দুই নাতি নাতনিকে দিতে বলবে…এটুকু বলেই কনকাঞ্জলি দেবী সিন্দুক থেকে গয়নার বাক্সটি বের করে নিমাই বাবুর কাছে রেখে বললেন,
-“এই সব গয়না তুমি বড় বৌমাকে দিয়ে দেবে। বেচারিকে কতো ভৎর্সনাই না করেছি মরণ দশা…..
নিমাই বাবু এতোক্ষণে একেবারেই ভুলে গেছেন যে তিনি তার মরা বউয়ের সাথে কথা বলছেন। নিমাই বাবুও তাই দুঃখ প্রকাশ করে বললেন,
-সত্যিই তাই গো,বেয়াই মশাইকে কতোইনা অপমান করেছি বাড়ি ভর্তি অতিথিদের সামনে,চলো না গো অঞ্জলি একদিন তুমি আমি গিয়ে বেয়াই মশায়ের থেকে ক্ষমা চেয়ে আসি…
কনকাঞ্জলি দেবী ভ্রু কুঁচকে একদৃষ্টিতে নিমাই বাবুর দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকিয়ে চাপা স্বরে বললেন,
-“মরণ দশা!আমি তো পরশু রাতে মরে ভুত হয়ে গেছি, বলি সে কতা কি তোমার স্বরণে নেই? মরণদশা বুড়ো তোমার স্মৃতি গেলো নাকি গো?
নিমাই বাবু আবারও স্বজ্ঞানে ফিরলেন,
-আরে! হ্যাঁ,তাই তো!…বলেই দাঁতে জিভ কেঁটে মুখে আরেকটু রাম নাম জপে নিলেন।
এই দেখে কনকাঞ্জলি দেবী ক্ষেপে গিয়ে বললেন,
-“মরণ দশা,এই না হলে বউ পীরিত! যেই মরে গেছি আর অমনি আমাকে দেখে রাম নাম জপ করা হচ্ছে!! ভন্ড বুড়ো কোথাকার! আর একবার রামনাম ধরে কেঁদে দেখো,গলাটা টিপে দিয়ে যাবো এসে,
মরণদশা আমি ক’দিন পর আবার বড় বউমার কোলে আসছি কো,দুই বউকে জব্দ করতে বড় বউএর মেয়ে হয়ে। আমি ছোট বউমার ঘর থেকে সাতনরী হারটা এনে দিয়ে যাচ্ছি,তুমি কালই সব গয়না বড় বউমার হাতে দিয়ে দেবে….মরণ দশা,আমার একটা কথারও এদিক ওদিক যেনো না হয় বুড়ো,এই বলে গেলুম…
এই বলেই কনকাঞ্জলি দেবী হুস করে একটা হাওয়া হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন,তাকে এভাবে যেতে দেখেই নিমাই বাবু মুহুর্তেই অজ্ঞান হয়ে খাটে শুয়ে পড়লেন।
(চলবে….)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ