• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
  • English Version
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

আহমদ শফীর পরে কে আসছেন হেফাজতে?

সংবাদ২৪ ডেস্ক
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

শাহ আহমেদ শফীর মৃত্যুর পর ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ পদে কে বসতে যাচ্ছেন, এ নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে দেশে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর বিভেদের বিষয়টি উঠে আসছে।

বলা হচ্ছে, এই বিভেদের কারণে হেফাজতের আমির পদে কোনো একক নাম উঠে আসছে না। হেফাজতের একাধিক শুরা সদস্য জানিয়েছেন, নেতৃত্ব বেছে নিতে কবে তারা বৈঠকে বসবেন, কোন কোন নাম বিবেচনায় আছে, তা নিয়ে তারা এখনও অন্ধকারে আছেন।

আল্লামা শফীর মৃত্যুর আগের দিন তার কর্মক্ষেত্র চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিচালনার নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতা চলছিল। ছেলে আনাস মাদানী আপাতত মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত হলেও তার অনুসারীরা এখন বিষয়টি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

এসব নানা বিভেদ ও জটিলতায় প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নতুন নেতা নির্বাচনের উদ্যোগ আসেনি হেফাজতে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন শফী।

হেফাজতের সম্ভাব্য আমির হিসেবে যে কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে, তাদের বেশিরভাগই চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। তবে প্রথমবারের মতো ঢাকার কেউ আমির হবেন কি না, এই বিষয়টি নিয়েও ইসলামপন্থীরা দৃষ্টি রাখছেন।

এখন পর্যন্ত হেফাজতের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী, সিনিয়র নায়েবে আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, ঢাকা মহানগর শাখার আমির নূর হোসেন কাসেমিকে নিয়ে আলোচনা বেশি।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আবারিয়ার নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মাহমুদুল হাসানকে নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। তিনি সম্মিলিত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্থা ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান হবেন। আল্লামা শফীও হেফাজতের পাশাপাশি এই দুটি সংস্থার নেতৃত্ব দিতেন।

মাহমুদুল হাসান গুলশানের আজাদ মসজিদের খতিব এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

সংগঠনের নেতারা মনে করেন, এটি চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হলেও আমির শাহ আহমদ শফীর গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বের কারণে ইসলামপন্থীদের মধ্যে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তার পরে উত্তরসূরি হিসেবে যোগ্য কাউকে খুঁজে বের করা হবে চ্যালেঞ্জ।

বিষয়টি স্বীকার করলেও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর শাখার নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসূফী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তরসূরী পাওয়া কঠিন, সেটা অবশ্যই বাস্তবতা। তবে অতীতেও দেখা গেছে আল্লাহ তায়ালা অতীতে কখনো কোনো স্থান শূন্য রাখেন না। এখনও থাকবে না আশা করি। আর আহমেদ শফী সাহেব তো এক সময় এই পর্যায়ে ছিলেন না, পরে তিনি সবার গ্রহণযোগ্য হয়েছেন। এবারও আশা করি তাই হবে।’

হেফাজতের শুরা কমিটির সদস্য ২২১ জন আলেম। অতীতে নানা সময় দেখা গেছে, নিজেদের মধ্যে মতভেদ ও বিভেদের কারণে এই আলেমরা বারবার দল ভেঙেছেন।

এই বাস্তবতায় প্রায় আড়াইশ আলেমের পক্ষে একজনকে বেছে নেওয়া কতটা কঠিন- এমন প্রশ্নে ইউসূফী বলেন, ‘অনেক সময় গোপন ব্যালট হয়। আড়াইশ লোক তো আর আননোন পারসন (অপরিচিত ব্যক্তি) না। নেতৃত্ব কে দিতে পারেন সে বিষয়ে ধারণা আছে। আর অনেক সময় উপকমিটি হয়। তারা কিছু নাম বাছাই করেন, তখন কাজটা সহজ হয়।’

শফীর পর এই ঘরানায় কোনো একক নেতৃত্ব বা মুরুব্বি নেই বলছেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জাফরুল্লাহ খানও। তিনি বলেন, নেতৃত্ব নির্বাচন একটু দুরূহ হবে।

জাফরুল্লাহ খান বলেন, ‘আমাদের মুরুব্বি বলতে কেউ নেই। তবে বলার মতো মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আছেন। তিনি হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির। চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল।’

তবে তিনিই আমির হবেন কি না, এই বিষয়টি নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন জাফরুল্লাহ খান। বলেছেন, তাকে (মুহিবুল্লাহ) নিয়ে আলোচনা শুনেছেন।

কার নাম বিবেচনায় আছে এমন প্রশ্নে আবদুর রব ইউসুফী বলেন, ‘এখন কারো নাম বলা উচিত না। বললে সমস্যা হবে। যখন বসব, তখন এ নিয়ে আলোচনা হবে। পরে আমরা সিদ্ধান্তে আসব।’

শুরা কমিটি কবে বসবে? আবদুর রব ইউসুফী বলেন, ‘এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন মহাসচিব (জুনায়েদ বাবুনগরী)’।

বাবুনগরী অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে ভর্তি।

ঢাকার নেতাদের কাছে গুরুত্ব কমেছে

হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন না হলেও এই সংগঠনে যারা আছেন, তাদের বেশিরভাগেরই আলাদা রাজনৈতিক সংগঠন আছে।

২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারিতে নারী নীতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গঠন করা হয় হেফাজতে ইসলাম। আলেমদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ হিসেবে সামনে রাখা হয় শাহ আহমেদ শফীকে। তিনি রাজনীতি নিয়ে কখনও মাথা ঘামাননি। আর ঢাকাকেন্দ্রিক আলেমরাও তাই তাকে নিয়ে কোনো হুমকি অনুভব করেননি।

কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ঢাকার রাজনীতির সামনের সারিতে তখন শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, মুফতি ফজলুল হক আমিনী। ইসলামী আন্দোলনের বাইরে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এই দুটি ঘরানাই তখন প্রভাবশালী।

তবে প্রধানত এই দুই নেতার মৃত্যুর পর ঢাকাকেন্দ্রিক একক নেতৃত্ব আর গড়ে ওঠেনি। আর ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাপ্রবাহের পর পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসেন চট্টগ্রামকেন্দ্রিক আলেমরা। সরকার এবং মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব দিতে থাকে চট্টগ্রামের আলেমদের।

আর এই বিষয়টি ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করছে। চলতি বছর দেখা গেছে, কর্মসূচিগুলো তারা নিজেদের দলের ব্যানারে পালন করছে।

স্থগিত হয়ে যাওয়া মুজিব বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল হেফাজত। কিন্তু ঢাকায় হেফাজতের ব্যানারে কর্মসূচি পালন না করে নিজেদের দলের ব্যানারে পালন হয়।

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর শাখার নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসুফী বলছেন, ‘আমরা তো রাজনৈতিক দলও। আমাদের পক্ষ থেকে পালন করেছি-এই আরকি। তবে এখানে কোনো বিভেদ নেই। আমরা সবাই হেফাজতেই আছি।’

‘আমাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। কেন্দ্র চট্টগ্রাম হলেও তাদের কর্মসূচি আমরা সাধ্যমত পালন করি।’

ইসলামপন্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব শূন্যতা

কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলো সামগ্রিকভাবেই নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগছে।

রাজনীতি না করলেও কওমি আলেমদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ‘মুরব্বির’ প্রভাব ছিল। নিজেদের মধ্যে বিভেদ হলে আলেমরা ছুটে যেতেন এই মুরব্বিদের কাছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘বড় হুজুর’ হিসেবে পরিচিত সিরাজুল ইসলাম ছিলেন এরকম একজন। নিজেদের মধ্যে কোনো বিভেদ হলে আলেমরা ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার কাছে যেতেন। ২০০৬ সালে সিরাজুল ইসলাম মারা যান।

এরপর থেকে ঢাকায় শায়খুল হাদিস আজিজুল হককে মুরুব্বি মেনে কওমি আলেমরা এগিয়েছেন। ঘটনাচক্রে তার নেতৃত্বও প্রশ্নের ‍মুখে পড়ে। এরপর আহমেদ শাহ শফীর মতো একক নেতৃত্ব আর কেউ উঠে আসেননি।

জাফরুল্লাহ খান বলেন, ‘শাহ আহমদ শফীই এই ঘরনার মধ্যে মুরুব্বি হিসেবে সবার মধ্যে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। তবে তার ছেলে আনাস মাদানীকে নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তারপরও আল্লামা শফীকে সবাই শ্রদ্ধা করতেন।’

কওমি আলেমদের পক্ষে একক নাম বাছাই করা কেন কঠিন, সেটা কিছু ঘটনায় বোঝা যায়।

কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এমন কোনো দল পাওয়া কঠিন, যেটা ভাঙেনি। এই দলগুলো শক্তিশালী হতে গিয়ে নানা সময় জোট গঠনের চেষ্টা করেছে। তবে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে সেটাও সফল হয়নি।

কওমিপন্থীদের মধ্যে বিভেদ, ভাঙন

২০১২ সালের আগস্টে আজিজুল হক ও ডিসেম্বরে মুফতি আমিনীর মৃত্যুর পর এই ঘরানাগুলোও আর কোনো একক নেতৃত্ব পায়নি। নানা উপদলে বিভক্ত হয়েছে।

আজিজুল হকের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোট বেশ আলোচিত হয়ে ওঠে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে। বিএনপি-জামায়াত জোটে যোগ দিয়ে ওই বছরের নির্বাচনে তারা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

তবে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে খেলাফত মজলিস এই জোট থেকে বের হয়ে আসে। ভাঙন ধরে ইসলামী ঐক্যজোটে। মুফতি আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট প্রভাশালী হয়ে উঠে।

২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছয় দফা চুক্তি করে খেলাফত মজলিস। নানা ঘটনাপ্রবাহের পর ২০১৮ সালে দলটি জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধে। ঘনঘন অবস্থান বদলের কারণে দলটি দুই টুকরো হয়ে যায়।

এই দল থেকে বেরিয়ে মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও আহমাদ আবদুল কাদের একই নামে যোগ দিয়েছেন বিএনপি জোটে।

খেলাফত মজলিসের এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা মুফতি শহীদুল ইসলাম জনসেবা পার্টি নামে দল করে সুবিধা করতে পারেননি। তিনি এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

আজিজুল হকের মৃত্যুর পর দুই ছেলে মাহফুজুল হক এবং মামুনুল হক নিজেদের মতো করে চেষ্টা করছেন নেতৃত্ব গড়ে তোলার। তবে তরুণ দুই নেতার এখনও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়নি।

ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে লালবাগ মাদ্রাসার সব সময় একটি বড় ভূমিকা ছিল। সেখানেই কোনো একক নেতৃত্ব না থাকায় ঢাকাকেন্দ্রীক রাজনীতিতেও তারা তেমন প্রভাব রাখতে পারছে না। এই ধারাটির নেতৃত্বে ছিলেন মুফতি ফজলুল হক আমিনী।

মুফতি আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটে এখন স্পষ্টত দুটি ধারা। এক দিকে আমিনীর ছেলে হাসানাত আমিনী এবং তার দলের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, অন্যদিকে আছেন আমিনীর দুই জামাতা জসিমউদ্দিন ও সাখাওয়াত।

হাসানাত আমিনীরা সরকারপন্থী আর জামাতারা সরকারবিরোধী হিসেবে পরিচিত।

আশির দশকের শুরুতে আলোচিত খেলাফত আন্দোলনও নিজেকে বিকশিত করতে পারেনি। হাফেজ্জি হুজুর নামে পরিচিত মাওলানা মোহাম্মদউল্লাহর মৃত্যুর পর দলের প্রধান হন ছেলে আহমদউল্লাহ আশরাফ। তার মৃত্যুর পর দলে বিভেদ তৈরি হয়। আশরাফের মহাসচিব জাফরুল্লাহ খান একাংশ এবং ছেলে আতাউল্লাহ হাফেজ্জী আরেক অংশের নেতৃত্ব দেন।

কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সবচেয়ে পুরনো দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম এখন তিন ভাগে বিভক্ত। নূর হোসেন কাসেমি নেতৃত্ব দিচ্ছেন একটি অংশকে। তিনি হেফাজতে ইসলামর ঢাকা মহানগর শাখার আমির। সম্প্রতি তাকে সামনে আনতে কেউ কেউ চেষ্টা করছেন।

এই দলের আরেক আলোচিত নেতা মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস দল ছেড়ে নিজে আরেকটি উপদল তৈরি করেছেন। ওয়াক্কাস চার বারের সংসদ সদস্য। তিনি দল ছেড়েছেন খেলাফত মজলিস থেকে জমিয়তে আসা আবদুর রব ইউসূফীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে।

পাশাপাশি ফরিদউদ্দিন মাসউদ আরও একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব।

দলগুলো কেন ভাঙছে- খেলাফত আন্দোলনের একাংশের নেতৃত্বে থাকা জাফরুল্লাহ খান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মত বিরোধ দ্রুত তৈরি হয়। অর্থলোভ আর লোভের কারণে দল ভাঙে।’

ধর্মীয় ভাবধারায় এই দুটি লোভ মানায় কি না- এমন প্রশ্নে এই নেতা বলেন, ‘থাকা উচিত না। তবে এটা আছে।‘

আবদুর রব ইউসুফী অবশ্য বলছেন, এসব বিভেদ সত্ত্বেও একক নেতৃত্ব আবার গড়ে উঠবে। বলেন, ‘কিছু প্রোগ্রাম আমরা দলের পক্ষ থেকে এককভাবে করি, কিছু প্রোগ্রাম আবার দেখবেন যৌথভাবে করি।’

আজিজুল হককে সবাই মেনে নিয়েছে এমন নয়, এক পর্যায়ে সবাই মেনে নিয়েছে, এখনও দেখছেন আমরা নানা সময় যৌথভাবে কাজ করছি, কেউ না কেউ উঠে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ