• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
  • English Version
শিরোনাম:
বগুড়া জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সিপারকে বিএনপি থেকে বহিস্কার বৃষ্টি সম্পর্কে বিস্ময়কর ১২টি তথ্য যা আপনি আগে হয়তো জানতেন না নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলতে মানবজাতিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে বহিরাগতদের কলেজে প্রবেশ নিষেধ খাদ্য নষ্ট ও অপচয় করা যাবে না : কৃষিমন্ত্রী দিবালোকে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক বগুড়ায় পুকুরে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার বিএনপির রাজনীতিতে চরম দুঃসময় চলছে : ওবাইদুল কাদের শিগগিরই আসছে এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

গোড়ায় গন্ডগোল (পর্বঃ০২)

লেখক : মোঃসারোয়ার হোসেন(হাবীব)
আপডেট রবিবার, ৭ জুন, ২০২০

হাসিব অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে উঠে দাড়ালো। দুইটা টিউশানি আজ মিস হয়েছে তার। এই সময়টা কিছু একটা করে পার করা উচিৎ। মার্কেটে গেলে মন্দ হয়না। নানান রকম মানুষের আনাগোনা হয় মার্কেটে। অন্য সময় হাসিব এই মার্কেট ব্যাপারটা এড়িয়ে চলে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও একবার তার মামাতো বোন হিয়াকে নিয়ে মার্কেটে ঘুরতে হয়েছিলো। উফ্! সে কি যে ঝামেলা,বলে বোঝানো যাবেনা। মেয়েরা বড়ই ছটফটে স্বভাবের। একবার এ দোকান তো একবার ঐ দোকান। এ কালার পছন্দ তো ডিজাইন ভালো না। ডিজাইন ভালো তো মাপে ঠিক না ইত্যাদি। সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে হিয়ার সাথে এ দোকান ও দোকান ছোটাছুটি করতে হয়েছে। শেষমেষ বেছে বেছে যা কিনে ফেলেছে বাসায় ফিরে তা আর পছন্দ হচ্ছেনা। হাসিব এর মনে হয় সব থেকে বিরক্তিকর আর ঝামেলার একটা কাজ হলো মার্কেট করা।
এ সব ভাবতে ভাবতেই হাসিব একটা দোকানের সামনে দারালো। রুপার জন্য কিছু কিনবে নাকি কিনবেনা ভাবতে ভাবতেই পেছন থেকে কে যেনো বললো,
-হাসিব ভাইয়া,কেমন আছেন?
হাসিব মেয়েটার দিকে তাকালো,চেনা চেনা মনে হচ্ছে কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছে না। মেয়েটা কিছুক্ষণ হাসিব এর দিকে তাকিয়ে অস্বস্তি নিয়ে বললো,
-আমায় চিনেছেন?
-ঠিক মনে করতে পারছিনা!
-ও,আমি ফারজানা,আপনার ছাত্র তুহিন এর বড়বোন।
-ও আচ্ছা।
-আমি অনেকবার নাস্তা দিতে আপনার সামনে গিয়েছি কিন্তু আপনি কখনো খেয়ালই করেননি হয়তো। শুধু পড়ানো নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন। একটা কথা বলবো?
-হুম।
-না থাক্ পরে বললেও হবে,আপনি কি কিছু কিনবেন?
-না
-ও,আমি ভাবলাম গার্লফ্রেন্ড এর জন্য কিছু কিনতে এসেছেন হা হা হা…
হাসিব কি বলবে বুঝতে পারছেনা,ব্যাস্ত মার্কেটে দারিয়ে দুজন তরুণ তরুনি গল্প করছে এটা অনেকেই সহজভাবে নিচ্ছে না,বিশেষ করে যে দোকানগুলোতে কাষ্টমার নেই সে দোকানিগুলো বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। ফারজানা এটা বুঝতে পেরে বললো,
-আমায় একটু হেল্প করেন,আসলে একাই এসেছি তো তাই…
-কেমন হেল্প?
-তেমন কিছুনা,আমি দুটো ড্রেস পছন্দ করেছি,একটা সবুজ আরেকটা নীল। বুঝতেছিনা কোনটা নেবো। একটা চয়েস্ করে দিবেন প্লিজ…
-দিতে পারি একটা শর্ত আছে।
-জানি ভাইয়া আপনি কি শর্ত দিবেন,ভাইয়া এটা মার্কেট এই সময় অন্তত পড়াশোনা বাদ থাক্ আর আমার ভাই আপনার ছাত্র আমি আপনার ছাত্রী নই তাই শুধু ভাইয়াকেই পড়াবেন বুঝেছেন?
-হুম।
-আপনি কি এখন ফ্রি আছেন?
-হুম।
-আমিও ফ্রি,আপনি ভাইকে ছুটি দিয়ে দিছেন তাই তুহিন বায়না করে নানিবাড়ি বেড়াতে গেছে,মা ও গেছেন সাথে,মা ই ক’দিন থেকে যাবেন যাবেন বলছেন এ জন্যই আজ তুহিন ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে। আমিও যেতাম সাথে বাট কাল ক্লাসটেষ্ট পরিক্ষা আছে একটা এ জন্য গেলাম না। আমি আর বুয়া আজ বাড়িতে একা থাকবো।
-ও
হাসিব ভাবতেছে কেনো এই ফারজানা নামের মেয়েটা তার সাথে আকবাড়িয়ে কথা বলতেছে কে জানে! ফারজানা বললো,
-চলেন ঐ দোকানটায় আমাকে ড্রেস পছন্দ করে দিবেন।
হাসিবের পছন্দমতো ফারজানা সবুজ কালার ড্রেস কিনেছে। সে ভেবেছিলো হাসিব নীলটা পছন্দ করে দেবে কারণ রুচিশীল পুরুষের প্রথম পছন্দ থাকে নীল রং এ। কিন্তু সবুজ সম্পর্কে হাসিব বলেছে,সবুজ রং রাসূল (সাঃ) এর পছন্দের রং। প্রকৃতির চিরসৌন্দর্য্যময় বিষয়গুলো হয় সবুজ। সবুজ হয় সতেজতার রং,অন্যান্য রং এর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে না পারলেও সবুজের দিকে তাকিয়ে থাকতে কোনো অলসতা আসেনা,সবচেয়ে বড় কথা হলো,রাসূল(সাঃ)-এর পাগড়ির রং ছিলো সবুজ।-এই যে এই একটা কারণেই ফারজানা হাসিবকে খুব পছন্দ করে,এমন হেনো বস্তু বা বিষয় মনে হয় নাই যা সম্পর্কে হাসিব জানেনা।

চুপি চুপি টুম্পা রুপার ঘরে ঢুকলো,রুপা তার দির্ঘ চুল খাটের বাহিরে ঝুলিয়ে রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে এখন অডিও প্লেয়ারে গাল চলছে,”আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো,আমি শুনেছি সেদিন তুমি নোনাবালি তীর ধরে বহুদূর বহুদূর হেটে এসেছো,আমি কখনো যাইনি জলে,কখনো ভাসিনি নীলে,কখনো রাখিনি চোখ,ডানা মেলা গাঙচিলে…”
টুম্পাকে ঢুকতে দেখেই এই পর্যায়ে রুপা উঠে বসলো।
-কি রে কাজ হয়েছে?
-হ আফা কাজ হইছে। আমারে আপনি ভরসা করে একটা কাজ দিছেন হেইডা কি আর না হইয়া পারে? আমারো তো দায়িত্ববোধ বলে একটা ব্যাপার আছে তাইনা? আর আমিতো….
রুপা এখন বেশ বুঝতে পেরেছে টুম্পা এখন লম্বা বকবকানি শুরু করতে চলেছে,তাকে কথা বলতে দেওয়া মানেই তার অভিমানটা কেটে যাবে,রুপা চাচ্ছে আরো বেশ খানিকক্ষণ তার এই অভিমানটা থাকুক। তাই রুপা টুম্পাকে বললো,
-ঠিক আছে তুই এখন যা,পরে আসিস…
-আফামুনি নিচে খুব ভালো ফুসকাওয়ালা এসেছে…
রুপা বিছানার নিচে থেকে টাকা বের করে টুম্পার হাতে দিলো। এর মাঝেই রুপার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। টুম্পাকে ফুসকা আনতে পাঠিয়ে রুপা বাবার ঘরে চলে গেলো। ফোনটা হাতে নিয়ে মায়ের নাম্বার ডায়াল করলো। সংসারে একজনের অভিমান বেড়ে গেলে দ্বিতীয়জনকে সেই অভিমান ভাঙ্গাতে হয়,এটায় সংসার টিকিয়ে রাখার অকাট্য একটা নিয়ম। বাবার ফোন থেকে যখন কল যাবে তখন মা ভাববে তার স্বামী তাকে স্বরণ করেছে। বাবার ক্ষেত্রেও এই একই ব্যাপারটা কাজ করবে।
মা কে কল দিয়ে রুপা তার বাবাকে বললো,
-বাবা,মা ফোন করেছে তোমার সাথে কথা বলবে…
ড.রহমান ফোনটা হাতে নিয়ে কানে ধরলেন। ওপাশ থেকে রেহেনা বেগম কথা বলছেন,
-হ্যালো…
-হুম বলো…
-কেমন আছো? আর সংসার কেমন চালাচ্ছো?
-তোমাকে ছাড়া ভালোই চলছে চিন্তা করো না।
-তাহলে তো আমার আর ওখানে কোনো প্রয়োজন নাই,বেশি সমস্যা হলে তোমার পি এ রিয়াকে বাসায় নিয়ে রাখতে পারো আমি কিছু মনে করবোনা।
-হুম কাকে কোথায় এনে রাখবো তা তোমার চিন্তা না করলেও চলবে,দু দিনের মধ্যে ফিরে এলে এসো,না হলে আর কখনো ফিরে এসোনা,আমিও দেখতে চাইছি তোমার ভাইয়েরা কতোদিন তোমাকে ওখানে রাখতে পারে।
-বুড়ো বয়সে তোমার ভিমরতি ধরেছে,না হলে দিন দুপুরে নিজের মেয়ের বয়সি একটা মেয়েকে নিয়ে রিক্সাই করে আইসক্রিম খেতে খেতে ঘুরে বেড়াতে না। কই আমাকে তো কোনো দিন রিক্সাই করে যাবার সময় আইসক্রিম কিনে দাওনি,আমি কি ঘাসে মুখ দিয়ে চলি যে কোনটা মমতা আর কোনটা লুতুপুতু এটা বুঝবোনা!
-এ জন্যই তো বলে,মেয়েদের বুদ্ধি হাটুর তলায় থাকে…এটুকু বলেই ড.রহমান কুট করে কলটা কেটে দিলেন। বাংলা পাঁচ এর মতো মুখটা দেখে রুপা বললো,
-বাবা কি হয়েছে?
-কিছুনা,তোর মা আরো কিছুদিন ওখানে থাকবে। তুই বরং এ কয়দিন টুম্পাকে কাজ বুঝিয়ে দিবি। শুধু কাজের কথা বলবি। অনর্থক বাজে কথা যেনো না হয়,যা বাঁচাল মেয়ে,কানের পোঁকা তুলে ফেলে একেবারে।
রুপা দির্ঘশ্বাস ফেলো বললো,
-বাবা,তোমার চেম্বারে যদি কানে পোঁকা ঢোকা কোনো রুগির কেস আসে তাহলে টুম্পাকে নিয়ে যেয়ো…
-এখন রসিকতা ভালো লাগছেনা,ঘরে যা…

টুম্পা মিথ্যা কথা বলেছিলো যে,নিচে ফুসকা ওয়ালা বসেছে। রুপার অভিমান টুম্পার ভালো লাগেনা তাই ফুসকা খাইয়ে অভিমান কাটাতে চাইছিলো,কিন্তু মিথ্যার ফল যে ভালো হয়না তা সে হারে হারে টের পাচ্ছে। রাস্তার মোড়ের ফুসকা চটপটির দোকান খোলে বিকাল চারটার পর এখন ভরদুপুরে সে ফুসকা পাবে কই। এখন ফুসকা নিতে চাইলে তাকে যেতে হবে ফুসকাওয়ালার বাড়িতে। তার বাড়ি টুম্পা চেনে,ফুসকা ওয়ালার একটা জুয়ান পোলা আছে, মাঝে মাঝেই বসে ফুসকা বিক্রি করতে। রুপার সাথে বেশ কয়েকবার ফুসকা খেতে গিয়ে টুম্পার সাথে তার পরিচয় হয়েছে। ছেলেটা বড়ই মিষ্টভাষি,হেসে হেসে কথা বলে। ফুসকা ওয়ালার বাড়ি রেল স্টেশনের বস্তির গলি দিয়ে যেতে হয়। এ জন্য তাকে এখন রিক্সা নিতে হবে। সে রিক্সার জন্য দারিয়ে পড়লো,এতোটা পথ পায়ে হেটে যাওয়া সম্ভব না,যদি ফুসকার টাকা কম পড়ে তাহলে ছেলেটার কাছে সে টাকা বাকি রেখে আসবে। টুম্পার দৃঢ় বিশ্বাস রুপা আফার কথা শুনলে পোলাডা তারে ফ্রি তেই ফুসকা দিবো,পোলাডা রুপা আফারে বড্ড ভালা পায়। তাই আর বেশি কিছু চিন্তা না করেই রিক্সাই উঠলো টুম্পা।

রেহেনা বেগম এখনো ফোনটা হাতে ধরে কেঁদেই চলেছেন। তার স্বামি এমন কেনো হয়ে গেলো এই চিন্তার কোনো সুরাহা তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। রেহেনা বেগমের মা মুনজিরা বেগম তার পাশে বসেই খুব মনোযোগ দিয়ে পান সাজালেন। পানে ভালোভাবে চুন ঘষে দু টুকরো কাঁচা সুপারি রেখে মেয়ের দিকে তাকালেন,রেহেনা বেগম তখনো আঁচল দিয়ে চোখ মুছে চলেছে,মুনজিরা বেগম তাকে কিছু না বলে আবারো পান সাজানোতে মন দিলেন,হাকিমপুড়ি জর্দা আর ধনিয়া ছড়িয়ে পান মুখে ঢুকিয়ে খানিকটা চিবিয়ে বললেন,
-একন তোর মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সময়,বয়স হয়েছে আমার,এখন যাই তখন যাই অবস্থা,লোকে বলে এক পা নাকি কবরে চলে গেছে আমার। আমার এখন নাত জামাই দেখার সখ,নাতনীর বিয়ে না দেখে যে এখন জামাই এর বিয়ে দেখবো এটা তো কখনো ভাবিনি। মেয়ের ঘরে সতীন ঢুকবে মা হয়ে তো আমি সেটা মেনে নিতে পারি নে।
-কিছু একটা করো মা,বুড়ো বয়সে ও কিরকম ভিমরতি শুরু করেছে একটা বার ভেবে দেখো মা,এখন যদি ডিবোর্স হয়ে যায় তাহলে আমি কি করবো? আমার কপাল তো পুড়তে চলেছে মা…
এটুকু বলেই রেহেনা বেগম আবারো কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। মুনজিরা বেগম আরেকটু মেয়ের কাছে এগিয়ে এসে বসলেন,মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
-কাঁদিস না মা,জামাই তো আমার খুব ভালো সাদা-সিধে প্রকৃতির। নিশ্চয় চেম্বারের ঐ মেয়েটায় জামাইকে জাদু টোনা করে বশ করেছে। আমার খোঁজে একজন ভালো ফকির আছে। লোকমুখে তার অনেক নাম শুনেছি,উনি একটা তাবিজ দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
রেহেনা বেগম আরেক দফা চোখ মুছে মায়ের দিকে তাকালেন। মুনজিরা বেগম আরেকটা পান সাজিয়ে মেয়ের দিকে এগিয়ে দিলেন,
-নে পান খা,চিন্তা করিস না। তোর মা থাকতে তোর ঘর ভাংবে এটা আমি কিছুতেই হতে দিবোনা।
-জর্দা দাও নি তো??
-না রে মা,সেদিনের পর থেকে কি আর তোকে জর্দা দিয়ে পান দিয়েছি কখনো?
রেহেনা বেগম পানটা টুপ করে মুখে পুড়লো। মুনজিরা বেগমের মনে পড়ে গেলো অতিতের কথা, একবার রেহেনা জর্দা দেওয়া পান খেয়েছিলো ওর বয়স তখন বারো কি তেরো বছর হবে। পান খাওয়ার দু এক মিনিট পরেই চিৎকার করে ওঠে রেহেনা,
-ও মা গো,আমি মনে হয় আর বাঁচবোনা গো,আমার সামনের সবকিছু কেমন অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে,কান দিয়ে আগুন বেরোচ্ছে,আমি মরে যাচ্ছি মা…
মুনজিরা বেগম কাজ ফেলে ছুটে এসে মেয়েকে বুকে জরিয়ে বসে পড়েন। প্রায় ২ঘন্টা পর মেয়েটা স্বাভাবিক হয়। এর পর থেকে রেহেনা বেগম আর কখনো জর্দা মেশানো পান খায়না।
মুনজিরা বেগমের এখন মনে পড়লো কতো কষ্ট করেই না তার দুই ছেলে এক মেয়েকে বড় করে তুলেছেন।
স্বামি মারা যাবার পর বড় ছেলে আহনাফ ই পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়। পড়াশোনা করা আর তার হয়ে ওঠেনি, একটা ইলেকট্রনিক্স এর দোকান সহ দুটো কসমেটিক্স শপ আছে তার। ছোট ছেলে আদনান সরকারী চাকুরে। ছোট মেয়ে রেহেনাকে ইন্টার পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়েছেন। যদিও রেহোনা বিয়েটা নিজের পছন্দমতো ছেলেকেই করেছে তবুও আজ তার সংসারের এই দুরাবস্থা। জগতের প্রতিটা জিনিসই সময় সময় ভয়ংকর খারাপ লাগে। যেমন মুনজিরা বেগমের সেই সময়ে নিজের মেয়ের প্রেমটা খারাপ লেগেছিলো। যা একজনের কাছে খারাপ লাগে তা অন্যজনের কাছে ভালো লাগে। তখন তার জামাই পছন্দ না হলেও মেয়েটা তাকেই পছন্দ করেছিলো কিন্তু আজ তাদের সবার যখন জামাইকে পছন্দ হয়েছে,সংসার জীবনের এতোটা সময় পার করে এসে আজ তার মেয়ের কাছে তার স্বামি খারাপ লাগছে। এখন আর মেয়েকে শাষণ করার পরিস্থিতি তার নেই যদিও প্রতিটা মায়ের কাছেই তার সন্তানরা সব সময়ই ছোটই থাকে। হোকনা সে শারীরিক গঠনে বড়,মায়ের কাছে এলেই সন্তানেরা একরকম আবেগী হয়ে ওঠে। রেহেনা বেগমের অবস্থাও এখন তাই। আলতো করে সে মায়ের হাতটা ছুঁয়ে বললো,
-মা,আমি কি তোমার কোলে মাথা রেখে একটু ঘুমাবো?
মুনজিরা বেগম মেয়ের কথার উত্তর না দিয়ে নিজের হাতে তার কোলে মেয়েকে টেনে নিলেন। কতোদিন কতোরাত যে তিনি এভাবে তার উরুতে মেয়ের মাথা রেখে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দিয়ে ঘুম পাড়িয়েছেন তার হিসেব নেই। স্মৃতির কোনে হঠাৎ তার ছোট্ট মেয়ে রেহেনাকে তার কোলে পেয়েছেন। অপরদিকে সন্তান যখনিই কোনো বিপদে পড়ে তখনিই তার মায়ের কথা সবার প্রথমে মনে পড়ে। এ ক্ষেত্রে আল্লাহর আগেও মা কে স্বরণ হয়। কারো কোথাও কোনো আঘাত লাগলেই তার চিৎকারের ভাষাটা হয়-“ও মাগো!”
আজ রেহেনা বেগমের মনের ব্যাথা,তাই ছুটে এসেছে তার মায়ের কাছে। মা ও তাকে পরম যত্নে বুকে নিয়েছেন। এর চেয়ে নিরাপদ আর শান্তির জায়গা পৃথিবীর অন্যকোথাও নাই।

ফুসকা নিয়ে ফিরতে টুম্পার বেশ খানিকটা সময় ব্যায় হলো,ফুসকাওয়ালার ছেলেটা হেসে হেসে কতোই না গল্প করলো তার আপ্যায়নের জন্য দোকান থেকে কেক বিসকিট কিনে খাওয়ালো। অবশেষে টাকা ছাড়াই ফ্রি তেই দু প্লেট ফুসকা প্যাকেট করে টুম্পার হাতে দিলো। ছেলেটা এতো আন্তরিক আগে জানলে আরেকটু সময় হাতে নিয়ে আসা যেতো। টুম্পা একটু উকিঝুকি করেই রুপার ঘরে ঢুকলো। রুপা এই একটা জায়গাতেই বেশ দুর্বল। যদি মন খারাপ থাকে তাহলে ফুসকা খেলেই তার মন ভালো হয়ে যায়। যদি অভিমান জমে তখন তার অভিমান ভাঙ্গানোর একমাত্র ঔষধ ফুসকা। আবার কোনো খুশির মুহুর্ত সেলিব্রেশন করতে হলেও ফুসকা টা তার লাগবেই। যাকে খুব সহজেই বলা যায় ফুসকা প্রেমি।
(চলবে…)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ