• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
  • English Version
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

ঝাল বেড়েছে মরিচের; ভালো দাম পেয়ে খুশি বগুড়ার কৃষকরা

খালিদ হাসান / ১০৪ দেখেছেন
আপডেট শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

ঝাল বেড়েছে মরিচের। এক সময়ের স্বস্তা মরিচ এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বাম্পার ফলন না হলেও ভালো দাম পেয়ে ফুরফুরে আমেজে আছেন বগুড়ার শিবগঞ্জের মরিচ চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে,চলতি খরিপ মৌসুমে এ অঞ্চলের ১৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ১০ টন। প্রতিকুল আবহাওয়ার কারনে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও বরাবরের মতো এ মৌসুমেও লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি মরিচ উৎপাদন হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

শনিবার বগুড়ার সবচেয়ে বড় সবজি বাজার মহাস্থান হাটে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই হাটে প্রতি মন মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ শ’ থেকে ৪৬’শ টাকায়। কিছু দিন আগে মরিচের দাম কম থাকলেও বর্তমানে বেশি দামে বিক্রি করতে পেরে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে কৃষকদের।

এদিকে দাম বেশি হলেও পাইকারদের মাঝে মরিচ কেনার ব্যাপক প্রতিযোগীতা লক্ষ্য করা গেছে এ বাজারে। বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মরিচ চাষিরা বাজারে ঢোকার আগেই তাদের ধরে ফেলছেন পাইকাররা। ভ্যান বা অটোরিক্সার উপরেই হাকছেন দাম। অনেকেই রাস্তায় বেঁচে দিচ্ছেন মরিচ। আবার এক কৃষকের আনা মরিচ নিতে টানা টানি করতেও দেখা গেছে একাধিক পাইকারকে।

মহাস্থান হাটের এমন চিত্র দেখে মনে হয় মরিচের দাম বাড়তে পারে আরও। বিষয়টি নিয়ে ঐ বাজারের পাইকারি মরিচ ব্যবসায়ী ইসমাইল জানান, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের উৎপাদন কম হওয়ায় ঢাকার মোকামে মরিচের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমরা বেশি দাম হলেও মরিচ কিনছি। আর এই দামে কিনেও আমাদের অনেক লাভ হবে।

এই হাটে মরিচ কিনতে আসা উপজেলার গুজিয়া হাটের সবজি বিক্রেতা মাহাবুল ইসলাম জানান, আমি আজ দুই মন মরিচ কিনেছি ৪৬’শ টাকা করে। এই মরিচ বাজারে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবো।

বর্তমান বাজারে মরিচের দাম নিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে উপজেলার বিহার পুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন,টেপাগারী গ্রামের ওয়ারেশ আলি ও মোকামতলার কাশিপুর গ্রামের আব্দুল বারী জানান, কিছু দিন আগে আমরা ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা মন মরিচ বিক্রি করেছি। কিন্তু বর্তমানে বাজার অনেক ভালো। আজ ৪৫’শ থেকে ৪৬’শ টাকা দরে মরিচ বিক্রি করলাম। এই দামে বিক্রি করতে পেরে আমরা অনেক খুশি।

দেউলীর মধুপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, “বাজার খুব ভালো। মরিচের এ রকম দাম থাকলে আমাদের লাভ হবে। কিন্তু সমস্যা হলো মরিচের অনেক গাছে পচারি রোগ ধরেছে। এছাড়া অনেক মরিচ কুকড়ে যাচ্ছে। ভালো আবহাওয়া থাকলে আমাদের ফসল আরও ভালো হতো।”

বাজারে হঠাৎ মরিচের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে কথা হয় শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মুজাহিদ সরকারের সাথে। তিনি দৈনিক মানবজমিনকে জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে অনেক কৃষকের মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে চলমান বৃষ্টিতে ফুল ঝড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কম হচ্ছে মরিচের। আর একারনে বাজারে মরিচের আমদানি কম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় বাজারে মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে চলমান করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার ব্যাপারে হাট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের তরফ থেকে তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পরেনি। বেশির ভাগ ক্রেতা বিক্রেতাকে দেখা গেছে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লোভ্স ছাড়াই কেনা বেঁচা করতে। হাজার হাজার মানুষের জনসমাগমে সরক্ষার ব্যবস্থা নেই কেনো?এমন প্রশ্নে হাট কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্রেতা বিক্রেতার সুরক্ষার জন্য হাট কমিটির অফিসের সামনে হাত ধোয়ার বেসিন বসানোর প্রক্রিয়া চলছে।#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ