• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
  • English Version
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

লক্ষ্যচ্যুত পরিষদকে বাঁচাতে চান সুহেল

সংবাদ২৪ ডেস্ক
আপডেট শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

নুরদের অসাংগঠনিক মনোভাবের বিরুদ্ধে কথা বললে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাম, গোয়েন্দাদের এজেন্টসহ অন্যান্য ট্যাগ দেয়া হয়। মানসিক রোগী বানিয়ে দেয়ার পাশাপাশি সাময়িক অব্যাহতির নামে হেনস্থা করাসহ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয় এরা। এমনকি মিডিয়াকেও তারা কীভাবে থ্রেট দিয়েছে দেখেছেন আপনারা।’

‘সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা এ পি এম সুহেল বলেছেন, সংগঠনকে নুরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁনদের স্বেচ্ছাচার থেকে বাঁচাতে চাইছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ২২ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন সুহেল। ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সংগঠন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনের পর নিউজবাংলার সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন সুহেল, যিনি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়ে আলোচিত হয়েছিলেন। তবে সুহেল বলেছেন, এখনই তিনি সব বলবেন না, সময় এলে সব কিছু খোলাসা করবেন।

 

পরিষদ ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের কারণ কী?

আমরা পরিষদ ভাঙিনি। বরঞ্চ, পরিষদের যে মূল লক্ষ্য ছিল, সেখান থেকে যারা সরে গিয়ে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব দেখিয়ে সংগঠনে ‘যা খুশি করে আসছে’ তাদের থেকে পরিষদকে বাঁচাতে পূর্ব নামে ফিরে গিয়ে নতুন কমিটি করেছি।

পূর্ব নাম মানে কী?

২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন গড়ে উঠে। সেই প্লাটফর্মের আন্দোলনকারীদের একাংশ মিলে আমরা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গঠন করি। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল রাজনীতি মুক্ত সামাজিক সংগঠন হিসেবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা।

আরও পড়ুন: নুর-রাশেদকে বাদ দিয়ে পুরোনো নামে ছাত্র অধিকার পরিষদ

কিন্তু ২০২০ এর ১৭ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে সংগঠনের নাম সংক্ষিপ্ত করা হয়। নাম রাখা হয় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। আমরা অনেকেই যদিও এর বিরোধিতা করি।

নুরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলন
নুরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নতুন কমিটির ঘোষণা দিচ্ছেন এ পি এম সুহেল। ছবি: নিউজবাংলা

নাম পাল্টালে কী সমস্যা?

নামের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও নীতি-নৈতিকতাও পাল্টে যায়। বিশেষ করে নুর তার একক স্বেচ্ছাচারিতায় সংগঠনে যা খুশি করতেন। নিজের ইচ্ছামতো সংগঠন চালাতেন।

এতদিন প্রকাশ্যে কিছু বলেননি কেন?

সংগঠনের স্বার্থে আর শোধরানোর সুযোগ দিয়ে এতদিন আমরা চুপ ছিলাম। তবে সম্প্রতি তাদের আর্থিক অস্বচ্ছতা, তৃণমূলকে অবমূল্যায়ন, ত্যাগী ও পুরাতন নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার করাসহ নানা ঘটনায় আমরা অবশেষে উদ্যোগী হয়েছি সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার ভয় থাকা স্বত্ত্বেও।

নিরাপত্তা নিয়ে কী ধরনের ভয়?

নুরদের অসাংগঠনিক মনোভাবের বিরুদ্ধে কথা বললে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাম, গোয়েন্দাদের এজেন্টসহ অন্যান্য ট্যাগ দেয়া হয়। মানসিক রোগী বানিয়ে দেয়ার পাশাপাশি সাময়িক অব্যাহতির নামে হেনস্থা করাসহ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয় এরা। এমনকি মিডিয়াকেও তারা কীভাবে থ্রেট দিয়েছে দেখেছেন আপনারা।

আরও পড়ুন: পরীক্ষা বাতিলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, চিন্তা ভবিষ্যৎ নিয়ে

রাশেদ খান (সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক) বলেছেন, আপনাকে তারা বহিষ্কার করেছেন। ফলে আপনারা তাদের কেউ না।

হ্যাঁ, সেটা তারা করেছে। তবে এর কারণটা তো বলেনি। সেটা আমি বলছি।

একের পর এক অস্বচ্ছতা সামনে আসতে থাকে৷ এমনকি সংগঠনের যেসব আর্থিক লেনদেন ছিল, সেগুলোর সঠিক হিসাব কখনও দেয়নি। আমরা অনেকেই তখন প্রতিবাদ করি। তখন আমাকেসহ আরও অনেকেকেই তারা বহিষ্কার করে দেয়। এটা নিয়ে তো সংগঠনে তখন অনেক প্রতিবাদ হয়েছে।

নুর ও তার পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে সংগঠনের ভেতর কি আলোচনা হয়েছে?

সংগঠনের ৮০ ভাগ সহযোদ্ধা এই বিষয়ে জানে। সমাধানের অনেক চেষ্টাও করেছে। নুর-মামুনরা তখন সমাধানকারীদের উল্টো ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করেন, সংগঠন থেকে বেরও করে দেন।

নুর তো বলছেন, এটি রাজনৈতিক মামলা…

সেটা কীভাবে? আমরা তো জানি মামুন নিজেই মেয়েটিকে আদালতে যেতে বলেছিলেন।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে সালিশের জন্য ডেকে গৃহবধুকে ধর্ষণ, মংলা থেকে ধর্ষক আটক
মেয়েটির বাবা একজ মৌলভী। মামুনের ধারণা ছিল, এই পরিবার থেকে আসা একজন এই বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য করবে না। আর যদি করেও থাকে, তাহলে তারা একে ভিন্নখাতে নিয়ে যাবে বলে ধারণা ছিল।

এখন মামলাটিকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিক্টিমকে নোংরাভাবে আক্রমণ করেছে। এখানেই তো তার মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে। নুর বলেছেন, মেয়েটি ইচ্ছা করেই সব করেছেন। তাতে নাকি তিনি দুশ্চরিত্রা হয়ে গেছেন। মানলাম। কিন্তু নুর তাহলে সেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চলেন কেমনে? তিনি কি চরিত্রবান?

নুরদের গ্রেফতারের দাবিতে অনশন


হাসান আল মামুন, নাজমুল হাসান সোহাগ, নুরুল হক নুরকে গ্রেফতারের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর অনশন

আপনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, বাদীর অভিযোগ সত্য, কীভাবে এটা জানলেন?

মামুনের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে কথা সবাই জানে। মেয়েটি খাবার এনে মামুনসহ আমাদের খাওয়াতেন।

আরও পড়ুন: ভাতিজিকে ধর্ষণ, আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

ছাত্র অধিকার পরিষদের কাছে মেয়েটা অনেক আগে থেকে বিচার চেয়ে আসছেন। তার সব ঘটনা খুলে বলেছেন। ন্যায়বিচারের দাবি করেছেন। তখন তাকে (বাদী) বারবার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সমাধান হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ