• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
  • English Version
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

শাশুড়ি কান্ড (পর্বঃ০২)

লেখক: মোঃসারোয়ার হোসেন(হাবীব)
আপডেট মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

কনকাঞ্জলি দেবী দরজা ভেদ করে ঢুকে দেখলেন,মেজবৌমা তার মেজো ছেলে(চয়ন)কে শাসাচ্ছে,
-শোনো বুড়ি তো গেলো,আমি দামী দামী সমস্ত শাড়ি সরিয়ে ফেলেছি। তুমি আবার ভালো মানুষের মতো বলে বসোনা যে আমি এসব ঝেড়ে নিয়ে এসেছি মায়ের আলমারি থেকে,এগুলো সব আমার টাকায় কেনা।
বুড়িকে কত কি কিনে ঘুষ দিতাম,কোনোদিন একটা গয়না পর্যন্তও ঠেকালো না। এই কি পিটপিটে একটা সোনার হার দিয়ে মুখ দেখেছিলো আমার। কিপটে বুড়ি,নাতির মুখ দেখবো বলে বলে পাগল করে দিচ্ছিলো,
দিলাম দুটো নাতি নাতনি…তার পরও তো বুড়ি একটাও ভারী গয়না দিলো না,ছেলেটাকেও সেই পিটপিটে একটা হার দিয়েছিলো। তোমার বাবাকে গিয়ে কালকেই বলবে গয়নাগুলো ভাগ করতে।
এই টুকু শুনে মেজো ছেলে বললো,
-আজ এসব কথা থাক না,মা টা তো আমার গেছেন,তোমার দুঃখ হচ্ছে না জানি,
কিন্তু আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,অনেক রাত হলো বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ো,-বলেই মেজো ছেলে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো দেখে অঞ্জলী দেবী মেজো বউয়ের উপর রাগে দুঃখে চিৎকার করে বলতে লাগলেন,
“আচ্ছা,আমি মরাতে কোনো আফসোস নেই দেখছি,মরণ দশা যে দুটোকে এতো ভালোবাসতাম সে দুটোর পেটে পেটে এতো সয়তানি…ছিঃছিঃছিঃ মরণ দশা থাক তোরা সবই তো রেখে চলে গেলাম,ভোগ কর এবার। মেজো খোকাটা আমার সারা জীবন মিনমিন করে গেলো বলেই বউটা মাথায় চড়ে নাচে। ভেড়াই থেকে গেলো ছেলেটা আমার। মরণ দশা যাই এবার বড় খোকা(অর্ণব) এর ঘরে গিয়ে দেখি, এতোক্ষণে ঐ বাঁজা বড় বউটা মনে হয় আমার নামে দু চার কথা বলে বড় ছেলের কান ভাংগাচ্ছে আর আমার নামে দাঁতে দাঁত পিষছে, খুশিতে হয়তো নাচ-গান ও শুরু করে দিয়েছে,মরণ দশা বড় খোকাটা আমার বড়ই নিরীহ ছেলে,ওকে দেখে আসি,আর ঐ বাঁজা বউটার গলাটা টিপে আসি মরণ দশা…
এই বলে কনকাঞ্জলি দেবী বড় ছেলে-বৌ এর ঘরের দরজার সামনে উড়ে এলেন।
-“হু ঠিক ধরেছি মরণ দশা,দরজা বন্ধ করে আমার নামে পিন্ডি চটকাচ্ছে বোধয়। নিরীহ ছেলেটার মাথা তো আগেই ঘোরানো হয়ে গেছিলো,কি দেখে যে বড় খোকা মজলো মরণ দশা কিচ্চু বুঝিনা। একটা কিছু ঠেকাইনি বাপের বাড়ি থেকে বিয়ের সময়,এমনকি আট বছর হয়ে গেলো একটা নাতি-নাতনির মুখও দেখাতে পারলো না,মরণ দশা তাকে নিয়ে আমার ছেলের যে কিসের এতো আদিখ্যেতা তা দেখলে গা জ্বলে যায়। যাই,ঘরে ঢুকে দেখি ও কি কি বলছে আমার নামে”
ঘরে ঢুকেই অঞ্জলী দেবী দেখলেন,বড় বউ বড় ছেলের বুকে মুখ গুজে আছে আর বড় ছেলে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে,এই দেখে কনকাঞ্জলি দেবী আরো ক্ষেপে গিয়ে বললেন,
-“মরণ দশা,বরের বুকে মাথা গুজে আবার সোহাগ খাওয়া হচ্ছে! সে তো খাবিই,বুড়ি মরেছে, হাড় জুরেছে তোর,ইচ্ছে করছে দিই গলাটা টিপে….”বলে এগিয়ে কাছে গিয়ে দেখলেন বড়খোকা বলছে,
-আহ্ শ্যামা,আর কতো কাঁদবে বলোতো? আর কেঁদোনা যা হবার তা হয়ে গেছে,কেউ তো আর চিরজীবন বেঁচে থাকেনা,সেই কাল রাত থেকে মায়ের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই কেঁদেই চলেছো কেঁদেই চলেছো,এভাবে বেশিক্ষণ কাঁদলে তো তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে,থামো এ বার,আর কেঁদোনা….
বড় বউ আরো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বলতে লাগলো,
-মা কেনো এতো তাড়াতাড়িই চলে গেলেন বলো তো? এটা কি উনার যাবার বয়স? পয়ষট্টি বছরে কেও মরে! সেই ছোটবেলায় মা কে হারিয়ে এই বাড়িতে এসে নতুন মা পেয়েছিলাম। কতো করে বারণ করতাম,মা হাই সুগার আপনার এতো বেশি মিষ্টি খাবেন না,মা হাই প্রেসার,কোলেস্টোরেল,সাবধানে থাকুন। কে শোনে কার কথা,উনার যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এ জন্যই খেতে নিষেধ করতাম বার বার,উনি শুধু আমাকে ভুল বুঝতেন।গত পরশু কতো তৃপ্তি করে দুপুর বেলা খাসির মাংস খেলেন,রাতে খাবেন বলে বলেও রাখলেন…কিন্তু রাতেই যে উনি….(বলতে বলতে বড় বৌ আবারো কেঁদে উঠলো),মায়ের কতো শখ ছিলো নাতি-নাতনির মুখ দেখবেন,এমন হতভাগী আমি তাও দেখাতে পারলাম না। আর বিশ্বাস করো অর্ণব,মায়ের সাতনরী হারটা আমার বাপের বাড়ির কেউ সেদিন নেয়নি। যদিও ঘটনাটার অনেকদিন পর “কে নিয়েছে” এটা জানতে পেরেছিলাম,কিন্তু ঘরে ভাঙ্গন ধরবে বলে আর আমার শোনা কথা কেই বা বিশ্বাস করবে ভেবে কাউকে বলিনি,এমনকি তোমাকেও না। মা তো এটাই জেনে গেলেন হারটা আমার বাপের বাড়ির লোকই চুরি করেছিলো…”
এ কথা শুনে অর্ণব বললো,
-তবে কে নিয়েছিলো হারটা? এক্ষুনি বলো,বাবা তো এখনো জীবিত আছেন, উনিই এর একটা বিহিত করবেন।
শ্যামা বললো,
-তোমাকে বলতে পারি কিন্তু কথা দাও তুমি এ কথা কাউকে বলবে না। মাথায় হাত দিয়ে কথা দাও আগে…
অর্ণব একপ্রকার গররাজি হয়েই বললো,
-আচ্ছা বলবো না বলো…
-সত্যিই কাউকে বলবে না তো??
-না আগে বলো তো….
আমতা আমতা করে শ্যামা বললো,
-ছোট নিয়েছিলো হারটা। ওদের ঘরের পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে শুনেছিলাম ছোট ঠাকুরপোর সাথে কথা কাটাকাটি করে বলছিলো মায়ের সাতনরী হারটা ও ঝেপে দিয়েছে বেশ করেছে,ঠাকুরপো অনেক রিকোয়েস্ট করছিলো হারটা ফেরৎ দিয়ে দেবার জন্যে,তখন ছোট বলেছিলো ঐ হারটা নাকি ওর খুব পছন্দের ছিলো,আর ও এটা চুরি করেছে তা বাড়িতে জানাজানি হলে এবং ওর সম্মানহানি হলে ও সুইসাইড করবে….ঠাকুরপো তাই চুপ করে ছিলো,আমিও এ সব শুনে আর কাউকে কিছু বলার সাহস পাইনি। আর বিয়ে বাড়ির সামনে একদল লোকের সামনে চুরির অপবাদে বাবা-ছোট ভাইটার যা সম্মানহানি হওয়ার তা তো কবেই হয়ে গেছিলো তাই আর কাউকে কিছু বলিনি এ ব্যাপারে। আর ছোটকে মা খুব ভালোবাসতেন,এ সব শুনলে উনিও সহ্য করতে পারতেন না….মা তো আমাকে সহ্য করতে পারতেন না,পারবেনই বা কি করে! একটা সন্তান ও তো পেটে ধরতে পারলাম না,প্রতি মাসেই ডাক্তারের কাছে আশ্বাস বাণী শুনে ফিরে আসতে হয়,হবে হবে কিন্তু হবেটা কবে সেটা তো ভগবানই জানেন,যদি কোনো সমস্যাই না থাকে তাহলে হচ্ছে না কেনো? সবই আমার দুর্ভাগ্য”-বলেই শ্যামা আবারো একদফা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো…
(চলবে…)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ