• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
  • English Version
Notice :
***শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে সংবাদ২৪**আগ্রহীরা সিভি পাঠান এই ইমেইলেঃinfo@shangbad24.com

শাশুড়ি কান্ড (পর্বঃ০৪)

লেখক : মোঃসারোয়ার হোসেন(হাবীব) / ১৯৭ দেখেছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

কনকাঞ্জলি দেবী হুস করে উড়ে গিয়ে ছোট বউয়ের ঘরে ঢুকে দেখলেন ছোটো বউ হারটা পড়েই ভোঁশ ভোঁশ করে ঘুমোচ্ছে,অঞ্জলি দেবী কাছে গিয়ে মারলেন হারটায় এক টান…
-“মরণ দশা! খোল শিগগিরি আমার হার খোল,চোর বউ কোথাকার….”
গলায় টান পড়তেই ধরমড়িয়ে উঠে বসে পরে মীরা,মৃতা শাশুড়ির দর্শন পেয়ে ছোট বউয়ের অবস্থা প্রায় শেষ,
-ম্ম…ম…মা..আ….আপনি??
-হ্যাঁ বাছা মরণদশা আমি,এতোদিন অনেক একটিং করেছো,আমাকে মেরেও ফেলেছে,এ বার হারটা খোলো…মরণ দশা,আর কাল সকালেই সবার সামনে তুই স্বীকার যাবি যে হারটা তুই চুরি করেছিলি,স্বীকার করে যদি বড় বউমার কাছে ক্ষমা না চাস তাহলে কাল রাতে এসে আমি তোর গলা টিপে মেরে ফেলবো,আর সব গয়না বড় বউয়ের কাছে থাকবে,মরণদশা ওদিকে কিন্তু একদমই নজর দিবি না,এই বলে রাকলুম”
এটুকু বলেই এক ঝটকায় হারটা খুলে নিলেন,হারের আ্যাসটা ছিঁড়ে গেলো,আর ছোট বউয়ের গলাতেও একটু কেটে গেলো। ছোটো বউ ভয়ে পুরোপুরি জ্ঞান হারিয়ে ধপ করে বিছানায় পড়ে গেলো। হারটা নিয়ে কনকাঞ্জলি দেবী নিমাই বাবুর ঘরে গিয়ে গয়নার বাক্সে রেখে এবার গেলেন মেজো বউয়ের ঘরে,ওকে দুটো হাত ধরে ঝাঁকুনি মেরেই ঘুম ভাঙ্গালেন….সে ও মৃতা শাশুড়িকে দেখে হতভম্ব হয়ে পাশে শুয়ে থাকা স্বামীকে মায়ের ভূ…য়ূ…ত…এসেছে বলতে যাবে এমন সময় অঞ্জলি দেবী “চুপপপ…”-বলেই দিলেন এক ধমক। আর বললেন,
-“মরণ দশা,শাড়ী ব্লাউজ যা নেবার নাও মা গো,কিন্তু হতচ্ছাড়ি সয়তান বদমাশ যদি আমার গয়নার দিকে একটিবার ও হাত বাড়াতে দেখি তবে তোর একদিন কি আমার একদিন। শোন লো ভদ্রলোকের বেটি,আমার সব গয়না মরণদশা বড় বউমার কাছে থাকবে,ভাগ চাইতে যদি দেখি তাহলে সেদিন রাতে এসেই গলা টিপে দিয়ে যাবো তোর। মনে যেনো থাকে কতা খানা”-বলেই কনকাঞ্জলি দেবী হূস করে উড়ে গেলেন,তাকে উড়তে দেখে মেজো বউও ভূ….য়ূ…ত….বলেই অজ্ঞান হয়ে গেলো।
কনকাঞ্জলি দেবী এবার এলেন বড় বউয়ের ঘরে। কাঁদতে কাঁদতে বড় বউ ঘুমিয়ে পড়েছে দেখে পাশে বসে তার মাথায় হাত বুলাতে লাগলেন…সেই স্পর্শে বড় বউ চোখ খুলে মৃতা শাশুড়িকে দেখে হকচকিয়ে গেলো….সেটা দেখে কনকাঞ্জলি দেবী বললেন,
-“ভয় নেই মা,মরণ দশা আমি তোর কোনো ক্ষতি করতে আসিনি,একটা কথা জানাতে এলুম,কাল তোর শশুড় আমার গয়নার বাক্সটি তোর হাতে তুলে দিতে আসবেন,যত্ন করে তুলে রাখবি,আর বাকি দুই বউকে একটিও গয়না যেনো দিতে না দেখি”
এ সব শুনে বড় বউ শাশুড়িকে জরিয়ে ধরে বললো,
-আপনি কেনো আমার মানা কথা শুনতেন না মা,কতো নিষেধ করতাম এগুলো খাওয়া আপনার পক্ষে বিষ। ছোটো বেলায় মাকে হারিয়ে আপনাকে পেয়েছিলাম,আর বিশ্বাস করুন মা আপনার সাতনরী হার আমার বাপের বাড়ির কেউ চুরি করেনি,ওটা নিয়েছিলো….
বড় বউয়ের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে কনকাঞ্জলি দেবী বললেন,
-ছোটো বউ নিয়েছিলো তাইতো? আমি সব জানি রে,মরণদশা ছোটো বউয়ের থেকে হারটা এনে বাক্সে রেখে দিয়েছি,পুরোনো দিনের গয়না বলে যদি পছন্দ না হয় তবে নতুন গয়না বানিয়ে নিস,শুধু এই সাতনরী হারটা আর মাথায় দেবার সোনার ফুলগুলো তোর কাছে রেখে দিবি,ওগুলো আমার মায়ের শেষ স্মৃতি ছিলো,মরণদশা তোর এবার কষ্টের দিন শেষ হবে,আমি শিগ্রীই তোর পেটে আসবো তোর মেয়ে হয়ে। মেয়ের মুখে ভাতের দিন একবারটি সাতনড়ি হারটা পরিয়ে দিস,আর বড় হবার পর মেয়ের যখন বিয়ে দিবি তখন গয়নাগুলো পড়াস। আজ চলি মরণদশা,ভালো থাকিস,আশির্বাদ করি তোর মঙ্গল হোক!” এই বলেই কনকাঞ্জলি দেবী বড় বউয়ের কপালে একটা চুমু দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন,সঙ্গে সঙ্গেই বড় বউয়ের সারা শরীর শিথীল হয়ে গেলো ও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো।
সকাল হতে না হতেই ছোটো বউয়ের চিৎকারে সবার ঘুম ভেঙ্গে গেলো,
পায়ের কাছে গয়নার বাক্সটা দেখে নিমাই বাবুরও রাতের সব কথা মনে পড়ে গেলো,উনিও তড়িঘড়ি করে একতলায় নেমে এসে দেখলেন বাড়ির উঠোনে দারিয়ে ছোটো বউ পাগলের মতো আচরণ করে হার চুরির ঘটনা স্বীকার করছে,সেই সঙ্গে মৃতা শাশুড়ির আগমন ও গলার কাটা দাগ দেখিয়ে উনার আদেশ বিত্তান্তও বর্ণনা করে বড় বউয়ের কাছে গিয়ে হাতে পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতেই গেলে বড় বউ ওর দুটো হাত ধরে ওকে বুকে জরিয়ে ধরে বলে,
-আর কাদিস না ছোটো,দোষে-গুণেই মানুষ। আর সুধরে নেওয়াটাই প্রকৃত মানুষের কাজ।
মেজো বউয়ের ও মনে পড়ে গেলো শাশুড়ির আদেশের কথা,ও ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকলো।
নিমাই বাবু্ও মৃতা স্ত্রীর আদেশ মতো গয়নার বাক্সটা বড় বউমার হাতে তুলে দিলেন।
কনকাঞ্জলি দেবীর শ্রাদ্ধ শান্তির দিন নিমাই বাবু বড় বউয়ের বাবার কাছে ছোট বউমাকে দিয়ে ক্ষমা চাওয়ালেন,নিজেও লজ্জা প্রকাশ করলেন সেদিনের ঘটনার জন্য।
তার ঠিক তিন মাসের মাথায় বড় বউয়ের সেই অসাধ্য সাধন হলো।
বড় বউমা সহ বাড়ির সকলেই টের পেলো বড় বউমা মা হতে চলেছে।
একমাত্র বড়বউ আর নিমাই বাবুই শুধু জানলেন যে কনকাঞ্জলি দেবীই আসছেন তার ফেলে যাওয়া সংসারে।
শাশুড়ির দেওয়া গয়না গুলো যত্ন করে রেখে দিয়ে,নিজের থেকে টাকা খরচা করে মেজো ও ছোট বউয়ের জন্য ওদের পছন্দমতো গয়না বানিয়ে দিলো বড় বউ।
এই দেখে ছবির ভেতরের কনকাঞ্জলি দেবী খুশি হয়ে বললেন,
-“মরণদশা,যোগ্য লোকের হাতেই আমার সংসারের ভার গেছে,ও সবাইকে একসুতোয় বেঁধে রাখতে পারবে,যেটা আমি করতে পারিনি। মরণদশা,এবার আমি নিশ্চিন্ত হয়ে মিলেমিশে এ সংসারে আসতে পারবো এই পরিবারের মেয়ে হয়ে….
(চলবে…)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ